ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ও অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ চলাকালে ই-মেইলে স্টেডিয়ামে বোমা রাখা হয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে তল্লাশি শুরু করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্টেডিয়ামে খেলা চলার সময় সকাল ১১টার দিকে হুমকির ই-মেইলটি আসে। বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তারক্ষীরা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি শুরু করেন। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয় এবং বম্ব স্কোয়াডকে ডাকা হয়। পুলিশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করেও স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ হওয়ায় সেদিন স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ফলে হুমকির খবর ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
হুমকির ই-মেইল পাওয়ার সময় মাঠে ম্যাচ চলছিল। নিরাপত্তার কারণে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দুই দলকেও বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়নি। খেলা শেষ হওয়ার পর দুই দলকে হুমকির কথা জানানো হয়। দুপুর ১টার দিকে দুই দল স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
ম্যাচে অবশ্য কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটেনি। নির্ধারিত খেলা শেষ হওয়ার পর ভারত ১০ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারায়। অর্থাৎ, বোমাতঙ্কের মধ্যেও ম্যাচটি মাঠে সম্পন্ন হয় এবং খেলোয়াড়েরা নিরাপদে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
গুজরাট ক্রিকেট সংস্থার সচিব অনিল পটেল জানান, হুমকির ই-মেইল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সাইবার সেলের একটি দলও স্টেডিয়ামে এসে তদন্ত ও তল্লাশি কার্যক্রমে যুক্ত হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরে এ ধরনের হুমকি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ এবং আইপিএল চলাকালে স্টেডিয়ামে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী তল্লাশিতে সেসব হুমকির সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও একইভাবে তল্লাশি চালানোর পর কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনাটি শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আহমেদাবাদ হাইকোর্ট এবং শহরের কয়েকটি স্কুল-কলেজেও ই-মেইলের মাধ্যমে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে একই ধরনের হুমকি আসায় বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
আগামী ২১ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব ই-মেইলের পেছনে কারা রয়েছে, কোথা থেকে বার্তাগুলো পাঠানো হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
হুমকির ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো বড় আয়োজনের আগে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের হুমকি ভুয়া হলেও প্রতিবারই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি উপেক্ষিত না থাকে।