ভারতীয় ক্রিকেটের দ্য ওয়াল খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়ের রক্তে যে ক্রিকেট মিশে আছে, তা তাঁর ছেলে অন্বয় দ্রাবিড় বারবার প্রমাণ করে চলেছেন। বয়স মাত্র ১৭, কিন্তু ব্যাটিংয়ের ধার আর চাপের মুখে রান তোলার ক্ষমতা এখনই ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিচ্ছে। ঘরোয়া অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে কর্নাটকের হয়ে আবারও এক বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন এই তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার। দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ৪১ বলে ৮৫ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচে প্রতিপক্ষ দিল্লির বোলাররা অন্বয়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কোনো জবাবই খুঁজে পাননি। নিজের ইনিংসটি সাজাতে তিনি হাঁকান ৭টি চার এবং ৫টি বিশাল ছক্কা। তাঁর দুর্দান্ত এই তাণ্ডবের সময়ে স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৭.৩২। চার ও ছক্কার বৃষ্টিতে ক্রিকেট দর্শকরা রাহুল দ্রাবিড়ের পরিচিত সেই ধীরস্থির রক্ষণাত্মক চেহারার বিপরীত এক রূপ দেখতে পান অন্বয়ের ব্যাটে। দ্রাবিড়পুত্রের এই চার-ছক্কার ঝড়ে ভর করে নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৪১৮ রানের এক বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে কর্নাটক।
ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে অন্বয়ের ব্যাটে রান যেন ঝরণার মতো ছুটছে। দিল্লির বিপক্ষে এই তাণ্ডব চালানো ইনিংসের ঠিক দুদিন আগেই চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। সেদিন মাত্র ৬২ বলে ১০৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ গুঁড়িয়ে দেন। পরপর দুই ম্যাচে এমন ব্যাক-টু-ব্যাক বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও ফিফটি তাঁর অসাধারণ ফর্ম ও দক্ষতার বড় প্রমাণ।
খেলার মাঠে শুধু ব্যাটার হিসেবেই নয়, অন্বয়ের ওপর রয়েছে আরও বড় দায়িত্ব। কর্নাটকের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব করছেন তিনি, একই সাথে সামলাচ্ছেন উইকেটের পেছনের দায়িত্বও। অধিনায়কত্ব ও উইকেটকিপিংয়ের এই দ্বিমুখী চাপ অনেক সময়ই খেলোয়ারদের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তবে অন্বয়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টো। অতিরিক্ত এই দায়িত্বকে তিনি রূপ দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসে। প্রতি ম্যাচেই দলের প্রয়োজন বুঝে রানের গতি বাড়াতে তিনি ভূমিকা রাখছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নাম লেখানোর আগেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জুনিয়র ক্রিকেটে নজর কেড়েছিলেন অন্বয়। গত জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইউথ ওডিআই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৬৭ বলে ৮৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কার মার। জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে পারফর্ম করার পর এবার ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন এই তরুণ তুর্কি। কেবল উইকেটে পড়ে থাকা নয়, দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার ধরণ বদলে ফেলে আগ্রাসী মোডে ব্যাটিং করার যে দক্ষতা তিনি দেখাচ্ছেন, তা আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।