মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস

সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজের মাঠের পারফরম্যান্স এবং দল পরিচালনা নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ বড় ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে দলের চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স ও সিরিজ পরাজয়ের পর থেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালা ছড়াতে শুরু করে। ক্রিকেটবোদ্ধা ও ভক্ত-সমর্থকদের অনেকের মুখেই তখন শোনা যাচ্ছিল যে, খুব দ্রুতই হয়তো নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে মিরাজকে। অবশেষে সেই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গুঞ্জনই সত্যি হলো এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘদিনের পর্যালোচনার পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে জাতীয় দলের নেতৃত্বে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা পর্ষদের সভায় মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা, দলের সামগ্রিক ফলাফলের অবনতি এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বোর্ড এমন একটি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। মিরাজের মতো একজন প্রতিশ্রুতিশীল ও লড়াকু অলরাউন্ডারের কাছ থেকে নেতৃত্ব সরিয়ে নেওয়াটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বেশ বড় একটা মোড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মেহেদী হাসান মিরাজের স্থলাভিষিক্ত করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ফরম্যাটের নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দলের পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার-উইকেটকিপার লিটন দাসকে। এর আগে থেকেই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট তথা টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলে আসছিলেন লিটন। এখন থেকে তার কাঁধে আরও বড় দায়িত্ব অর্পিত হলো। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এর ফলে এখন থেকে জাতীয় দলের সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই অর্থাৎ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—উভয় বিভাগেই টাইগারদের প্রধান সেনাপতি বা নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।

সাম্প্রতিক সময়ে লিটন দাসের ব্যাট থেকেও বড় ইনিংস প্রত্যাশা অনুযায়ী না আসলেও, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং ড্রেসিংরুমে তার অভিজ্ঞতাকে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে বিসিবি। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞদের ভারসাম্য বজায় রেখে দলকে সামনের আন্তর্জাতিক ব্যস্ত সূচির জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে লিটনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে ক্রিকেট বোর্ড। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় দলের সাদা বলের ক্রিকেটে এই নেতৃত্ব বদল আগামী দিনে টাইগারদের পারফরম্যান্সে কতটা ইতিবাচক বা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই মূলত দেখার বিষয়। ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের অধীনে বাংলাদেশ দল কীভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরে এবং হারের বৃত্ত ভেঙে জয়ের ধারায় ফিরে আসে।

মন্তব্য করুন