রেকর্ডের রাত পেরিয়ে তামিমের ব্যাটে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

চট্টগ্রামের দর্শকরা যেন এক দুর্লভ দিন দেখল—এক এমন দিন, যেদিন বাংলাদেশ দলের এক তরুণ ওপেনার তানজিদ তামিম নিজের নাম তুলে নিলেন বিশ্বরেকর্ডের তালিকায়। পরেরদিন ব্যাট হাতে নেমে তামিম দেখালেন তিনি কেবল ফিল্ডিং–গুণেই নয়, স্ট্রোক–সৌন্দর্য ও দায়িত্ববোধেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

এদিন আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষ হলো বাকি থাকতে পুরো ৩৮ বল, যা ফলাফলের একতরফা দিকটাই প্রমাণ করে।

১১৮ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে পেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খেললেন ধীরস্থির কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট। ওপেনার ইমন ২৬ বলে ৩৩ রান করে দ্রুত শুরু এনে দেন। লিটনের ব্যাট ব্যর্থ হলেও তামিম নিশ্চিত ছিলেন নিজের পরিকল্পনায়। ৩৬ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে কোনো অহেতুক ঝুঁকি নেই, নেই অযথা আগ্রাসন—কেবল ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত।

তামিমের ব্যাটিং প্রশংসনীয় হলেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বোলাররাই। আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতে স্টার্লিং আক্রমণাত্মক শুরু করলেও রিশাদ–সাইফের সমন্বয়ে দ্রুতই তাঁর বিদায় ঘটে। এরপর যেন আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ আর মাথা তুলতেই পারেনি। টিম টেক্টর ছাড়া কেউই দাঁড়াতে পারেননি।

বাংলাদেশের পেসার–স্পিনারদের মিলিত দাপটে একের পর এক উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা ১৯.৫ ওভারে ১১৭ রানেই থেমে যায়। মুস্তাফিজের কাটারের ধার এদিন ছিল আগের চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত। রিশাদ লেগস্পিনে দেখালেন চমৎকার নিয়ন্ত্রণ আর শরিফুল ইনিংসের শুরুতে দারুণ বোলিং করে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসেন।

মুস্তাফিজ ও রিশাদ তিনটি করে উইকেট নেন। শরিফুল নেন দুইটি। মেহেদী ও সাইফুদ্দিন একটি করে উইকেট তুলে নেন।

ব্যাটিংয়ের সময় তামিমের নির্বিঘ্ন স্ট্রোক আর শান্ত ব্যাটিংই দলকে সহজ জয়ের পথে এগিয়ে নেয়। ইমন–তামিম জুটি দলকে প্রয়োজনীয় গতি এনে দেয়। মাঝখানে উইকেট পড়লেও কখনোই বাংলাদেশ চাপে পড়েনি।

তামিমের ফিল্ডিং–ব্যাটিং মিলিয়ে এই সিরিজজয়ে তাঁর মুমূর্ষু ভূমিকা টাইগার সমর্থকদের হৃদয়ে এক বিশেষ জায়গা করে নেবে নিঃসন্দেহে।

মন্তব্য করুন