ভারতীয় ক্রিকেটে চলতি সময়টিকে অনেকেই ভাবছেন সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে অস্থির সময়। ঘরের মাঠে টানা সিরিজ হারের পর সমর্থক, সাবেক ক্রিকেটার এবং বিশ্লেষকেরা সমালোচনায় মুখর। কিন্তু বিসিসিআই জানিয়েছে, তারা এখনই কোচ গৌতম গম্ভীরকে সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। বরং পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার গভীরে যেতে চায়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের পর যখন ভারতীয় দল পুনর্বিন্যাসের পথে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা এসে আরও বড় আঘাত দেয়। তারা ২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছে। এর চেয়েও বড় আঘাত হলো ভারতীয় ব্যাটিংয়ের লজ্জাজনক পতন—যেখানে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে ভারত সাতটি উইকেট হারায়।
যেকেউ ভাবতে পারত, এত দুর্বল পারফরম্যান্সের পর গম্ভীরের চাকরি ঝুলে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা ভিন্ন।
বোর্ড জানিয়েছে, দলের ভাঙাগড়া প্রক্রিয়া চলছে। বেশ কিছু নতুন ক্রিকেটার দলে এসেছে, কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় বিশ্রামে। তাই হারের দায় এককভাবে কোচকে দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। তাছাড়া সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঠিক এখন কোচ বদলানো দলকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
বোর্ডের যুক্তি
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন,
“গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। এখন কোচ বদলানো মানে সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়া।”
তিনি আরও বলেন,
“নির্বাচক কমিটি, অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সবকিছু পর্যালোচনা করতে হবে।”
কৌশলগত ভুল কি গম্ভীরের পতনের কারণ হবে?
ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত তীব্র সমালোচিত হয়েছে। যেমন:
-
ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
-
অতিরিক্ত স্পিন সহায়ক উইকেট প্রস্তুত করা
-
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুল দল নির্বাচন
গম্ভীর নিজেও স্বীকার করেছেন ব্যাটিং ব্যর্থতা দলে বড় সমস্যা। তিনি বলেন, ‘‘৯৫/১ থেকে ১২০/৭—এটা ভারতের ব্যাটিংয়ের মান নয়।’’
থাকছেন গম্ভীর, কিন্তু কতদিন?
যদিও আপাতত গম্ভীর নিরাপদ, বিশ্লেষকেরা বলছেন,
“পরবর্তী দুটি সিরিজই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে।”
যদি ভারতের পারফরম্যান্স না বদলায়, বোর্ড তখন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। এখনই তাকে ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়া হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।