শেফালির ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিল ভারত

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের মহাতিবাচক ও উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সামনে এক বিশাল পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে ভারত। টস জিতে ভারতীয় দলের অধিনায়ক প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে রান তুলতে থাকেন তাদের ব্যাটাররা। নির্ধারিত কুড়ি ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত সংগ্রহ করে ১৯৫ রানের একটি বিশাল স্কোর।
ইনিংসের শুরুতেই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান ভারতের মারকুটে ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। মাত্র ৮ রান করার মধ্য দিয়ে তিনি মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটার সুজি বেটসের ক্যারিয়ার রান ছিল ৪৭৫৮। তাকে পেছনে ফেলে মান্ধানার ব্যক্তিগত সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ৪৭৬৫ রানে।
রেকর্ড গড়ার পর অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি মান্ধানা। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তিনি আউট হন। মিড উইকেটে দারুণ এক ক্যাচ লুফে নেন ফিল্ডার সোবহানা মোস্তারি। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ১৯ বলের মুখোমুখি হয়ে একটি ঝড়ো ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তার এই ঝড়ো শুরুর সুবাদেই শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায় ভারতীয় দল।
মান্ধানার বিদায়ের পরও ভারতের রান তোলার গতি একটুও কমেনি। উইকেটের অপর প্রান্তে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান তরুণ ব্যাটার শেফালি ভার্মা। চমৎকার সব শটে মাত্র ২৪ বলেই নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করে ফেলেন তিনি। এর আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ফিফটি করার অভিজ্ঞতা ছিল এই ব্যাটারের।
ইনিংসের মধ্যপথে রান আরও দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২ উইকেটে ৯৭ রান। এরপর ক্রিজে আসা গুনালান কমলিনী অবশ্য থিতু হতে পারেননি। বেশ কয়েকটি ডট বল খেলার চাপে পড়ে সানজিদার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে রাবেয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। মাত্র ১০ বল খেলে তার অবদান মাত্র ৩ রান।
তবে কমলিনীর বিদায়ের পর শেফালির ব্যাট থেকে রান আসার গতি আরও বেড়ে যায়। ফিফটির পর তিনি সরাসরি দৃষ্টি দেন শতকের দিকে। ১৫ ওভার শেষে ভারতের রান গিয়ে পৌঁছায় ২ উইকেটে ১৫০ রানে। সে সময় ৩৮ বলে ৭৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন শেফালি এবং তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিচ্ছিলেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর, যার নামের পাশে তখন যুক্ত হয়েছিল ২৭ রান।
দলের রান বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় অধিনায়ক হারমানপ্রীতও ভালো অবদান রাখেন। ৩৩ বল মোকাবিলা করে তিনি করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান। শেষ পর্যন্ত তাকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে সাফল্য পান লেগ স্পিনার রাবেয়া। তবে থামানো যায়নি শেফালিকে। ইনিংসের ১৯তম ওভারেই কাঙ্ক্ষিত শতকের দেখা পেয়ে যান এই বিস্ফোরক ব্যাটার। তার এই সেঞ্চুরি ও দলের অন্যান্যদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ দলের সামনে ফাইনালে ওঠার লড়াইটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন