আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হাউজ দ্যাট খেলোয়াড়দের সমবেত আবেদন।
হাউজ দ্যাট খেলোয়াড়দের সমবেত আবেদন
খেলোয়াড়দের সমবেত আবেদনের চিৎকারে ক্রিকেট মাঠ ভরে ওঠে, মুখরিত হয়ে ওঠে ক্রিকেট মাঠ। সে আবেদনে কখনও আম্পায়ার সাড়া দেন, কখনও দেন না। তবু ক্রিকেট খেলার এই আবেদন একটি ঈর্ষার বস্তু। সমস্ত খেলোয়াড়রা যখন একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে, তখন শুনতে খুব ভালো লাগে। ভালো লাগে সেই সমবেত চিৎকার। কান পাতলে এখনও যেন সে চিৎকার শোনা যায় । ক্রীকেট- রসিকদের প্রাণের মধ্যে গেঁথে গেছে ঐ কটি কথা,……‘হাউজ ঘাট’ ।
ইংলণ্ডের উইকেট-রক্ষক জর্জ ডাকওয়ার্থ এমন জোরে আবেদন করতেন যে, তাঁর চিৎকার মাঠের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যেতো। ‘হাউজ ড্যাট’ চিৎকারের সৌন্দর্য আলাদা । যদি কোন দিন চিৎকার করে আবেদন করার বদলে অন্ত কোন পন্থা অবলম্বন করা হয়, ‘হাউজ ঘাট’ বলে চিৎকারের মূল্য একমাত্র সেই দিনই পুরোপুরি বোঝা যাবে ।
আপীল বা আবেদন
৪৭নং নিয়ন
প্রতিপক্ষ দলের আবেদন অর্থাৎ আপীল ব্যতিরেকে আম্পায়ার কোন আউটের নির্দেশ দেবেন না। আবেদন পরবর্তী বলের ডেলিভারির বা ১৮নং নিয়মানুযায়ী ‘টাইম’ ঘোষণার আগে জানাতে হবে। বোলারের দিককার আম্পায়ার ৩৮ বা ৪২নং নিয়মের আউটের বা ৪১নং নিয়মের স্ট্রাইকারের দিকের রান আউটের আবেদন ব্যতীত সব নিয়ম বা ৪১নং নিয়ম অনুসারে স্ট্রাইকারের দিকের রান আউটের বেলায় লেগ আম্পায়ার নির্দেশ দেবেন। কোন ক্ষেত্রে যদি একজন আম্পায়ার মতামতের জন্যে অপরজনের কাছে আবেদন জানান, তাহলে অপরজনের নির্দেশই কার্যকরী হবে।
দ্রষ্টব্য
(ক) ‘হাউজ দ্যাট’ বলে আউটের জন্যে আবেদন জানানো হয়। আম্পায়ার মাথার উপর তর্জনী আঙ্গুল তুলে আউটের ইশারা দেবেন, এবং ব্যাটসম্যান আউট না হলে, ‘নট আউট’ বলবেন। এই ‘হাউস দ্যাট’ আবেদনে সব রকম নিয়মের আউটের আবেদন আছে বলে ধরা হয়, যতক্ষণ না কোন বিশেষ আউটের আবেদন হচ্ছে। একজন আম্পায়ার আবেদন অগ্রাহ্য করলেও অপর আম্পায়ার তাঁর নিজের আওতার মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘনের জন্যে আউট দিতে পারেন, অবশ্য সেই সময়েই এটা চলতে পারে ।
(খ) আম্পায়ার তাঁর নির্দেশ নাকচ করে দিতে পারেন, তবে খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে ।
(গ) প্রয়োজন মনে করলেই আম্পায়াররা কোন আবেদনের ব্যাপারে ঘটনা সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন । কোন আম্পায়ারের যখন নির্দেশ দিতে সন্দেহ হচ্ছে না, তখন তিনি অপর আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করবেন না। দু’জন আম্পায়ারের মধ্যে আলোচনা হবার পরও যদি সন্দেহ থাকে, তা’হলে ব্যাটস- ম্যানের স্বপক্ষেই নির্দেশ যাবে, অর্থাৎ ব্যাটসম্যান আউট হবে না ।
(ঘ) যদি কোন ব্যাটসম্যান আউট না হয়েও ভুল বুঝে উইকেট ছেড়ে চলে আসেন, সে ক্ষেত্রে আম্পায়ার ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করবেন।
(ঙ) ২৫নং নিয়মানুযায়ী ‘ওভার’ ডাকা হলেই বলটি ‘ডেড’ হয়ে যায়; কিন্তু তৎসত্ত্বেও পরবর্তী ওভারের প্রথম বলটি যতক্ষণ না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ আবেদন চলতে পারে। কিন্তু ‘টাইম’ ঘোষণার পর বেল তুলে নিলে আর এক্ষেত্রে আবেদন গ্রাহ্য হবে না ।
অতিরিক্ত মতামত
(ক) অবধারিত আউট, যেমন—বোল্ড, কট প্রভৃতির ক্ষেত্রে আবেদন না জানালেও কিছু আসে যায় না।
আবেদন করতে এবং আউট দিতে একটু দেরি হলে এবং সেই ফাঁকে ব্যাটসম্যানরা যদি রান নিয়ে নেন তাহলে আম্পায়ার স্কোরারকে রানটি নাকচ করে দেওয়ার জন্যে বলবেন। বল পায়ে লেগে যাবার পর ব্যাটসম্যানরা লেগ বাই রান নিলেন ; কিন্তু সে বলটা পায়ে লাগার ফলে এল. বি. ডব্লিউ. আউট হলেন স্ট্রাইকার। তখনও রানটি বাদ যাবে, এবং নন-স্ট্রাইকার তাঁর জায়গায় ফিরে আসবেন ।
(খ) ক্যাচ আউট হবে ভেবে ব্যাটসম্যান যদি ক্রীজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, এবং ক্যাচ মিস হবার পর বলটি দিয়ে উইকেট ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাটসম্যান রান-আউট হবেন।