হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকে আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে লিডে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট শিকারের নৈপুণ্যে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (১১ অক্টোবর) ২৪০ রানে অলআউট হয়েছে আফগানরা। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে টাইগাররা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২১১ রান। ফলে তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ ছিল দলটির সামনে। তবে দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। দ্রুত উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আফগানিস্তান।
তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানের মাথায় ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। ১০৩ বলের ইনিংসে ৩২ রান করেন ইকরাম। তাঁর বিদায়ের পর আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।
ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বল হাতে নিয়ে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পরপর তিনটি উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর শিকার হন ইসমত, কায়েস ও জিয়া-উর-রেহমান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এটি ছিল তৃতীয় হ্যাটট্রিক। তবে পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়ার ক্ষেত্রে হাসানই প্রথম বাংলাদেশি।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। তাঁদের সেই তালিকায় এবার জায়গা করে নিলেন হাসান। একই সঙ্গে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক হয়ে নিজের নামটি স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণে আফগানিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সালিমের বিদায়ে ২৪০ রানেই থেমে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। তিনি পাঁচটি উইকেট নেন। অন্যদিকে এবাদত হোসেন শিকার করেন চারটি উইকেট। দুই পেসারের সম্মিলিত আক্রমণে আফগানিস্তানের ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ পায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ।
তবে বাংলাদেশের জন্য দিনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর সেঞ্চুরি। দল যখন একের পর এক উইকেট হারাচ্ছিল, তখনও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টেই শতক তুলে নেন রহমত। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়।
রহমতের এই ইনিংস আফগানিস্তানকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিলেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি। ১০৬ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ এখন প্রথম ইনিংসের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শুধু আফগানিস্তানের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও এটি একটি স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে। একই ইনিংসে হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব তাঁকে ম্যাচের অন্যতম প্রধান আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন