১৯ বছর পর জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো

১৯ বছর পর জিম্বাবুয়ে আবারও ইতিহাস গড়ল। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় উপভোগ করার স্মৃতি ফেরাল তারা। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাণ্ডব দেখাল। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে দলটি কৌশলী ব্যাটিং ও কার্যকর বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে।

অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের নির্ধারিত ১৭৯ রানের জবাবে ধীরে ধীরে এগোতে থাকলেও, পঞ্চম উইকেটে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরার পর তাদের ভরসা ক্ষয় হয়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারেই ১৪৬ রানে অলআউট হয়, অর্থাৎ নির্ধারিত ২০ ওভারও খেলতে পারেনি সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। বাকি ৫ উইকেটের জন্য তারা মাত্র ৬৩ রান যোগ করতে সক্ষম হয়।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং দলে ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ৫৬ বল খেলে তিনি ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২১ বলে ৩৫ রান এবং রায়ান বার্ল ৩০ বলে ৩৫ রান করে দলের স্কোরকে সমৃদ্ধ করেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা শেষ পর্যন্ত ১৩ বল খেলে ২৫ রান যোগ করেন।

বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের তরফে ব্লেসিং মুজারাবানি সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন। তিনি ৪ উইকেট শিকার করেন। ব্র্যাড ইভানসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ৩ উইকেট নেন। দুজন মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের ধুঁকতে বাধ্য করে।

নিচের টেবিলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান ও বোলারদের পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:

দলের নাম ব্যাটসম্যান রানের স্কোর বল স্ট্রাইক রেট উইকেট নেয়ার বোলার উইকেট সংখ্যা ওভার/বল
জিম্বাবুয়ে ব্রায়ান বেনেট ৬৪* ৫৬ ১১৪.২ ব্লেসিং মুজারাবানি ৪ ওভার
জিম্বাবুয়ে তাদিওয়ানাশে মারুমানি ৩৫ ২১ ১৬৬.৬ ব্র্যাড ইভানস ৪ ওভার
জিম্বাবুয়ে রায়ান বার্ল ৩৫ ৩০ ১১৬.৬
জিম্বাবুয়ে সিকান্দার রাজা ২৫* ১৩ ১৯২.৩
অস্ট্রেলিয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৫ ২০ ১৭৫

ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, “১৯ বছরেরও বেশি সময় পর এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ। আমরা দৃঢ় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি, ব্যাটিং ও বোলিং দুটিতেই সাফল্য পেয়েছি। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে জয় সত্যিই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।”

জিম্বাবুয়ের এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। বিশেষত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় দলের যুব খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শক্ত অবস্থান গঠনে সহায়তা করবে।

মন্তব্য করুন