২০২৫ সাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের জন্য ছিল আনন্দ-বেদনার মিশেল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দল গ্রুপ পর্বে হোঁচট খায়, আবার এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়ে সমর্থকদের মাঝে আশা জাগায়। এদিকে ট্রাই–নেশন টি–টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থাকার সুবাদে পাকিস্তানের আধিপত্যও দেখা যায়। কিন্তু এসব অর্জন ছাপিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে যে খবর সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে, তা হলো পাকিস্তানের ক্রিকেটার সালমান আলি আগার অনন্য কীর্তি।
২০২৫ সালজুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন সালমান। মোট ৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি টেস্ট, ১৭টি ওয়ানডে এবং ৩২টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। এর ফলে তিনি পেছনে ফেলেছেন ভারতের কিংবদন্তি দুই ক্রিকেটার: ১৯৯৯ সালে রাহুল দ্রাবিড় ও ২০০৭ সালে এমএস ধোনির করা ৫৩ ম্যাচের রেকর্ড। বিশ্ব–ক্রিকেটে এই রেকর্ড ভাঙা শুধু সংখ্যার পরিসংখ্যান নয়, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় শক্তির নতুন পরিচয়ও।
তবে এই রেকর্ডের পেছনে আছে বড় ধরনের মানসিক চাপ ও সংগ্রামের গল্প। পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে প্রায়ই পরিবর্তন এসেছে, নেতৃত্বে চাপ বেড়েছে, আবার সিরিজের পর সিরিজ দলের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সালমানের নেতৃত্ব ছিল ঠান্ডা মাথার। তিনি ব্যাটিংয়ে যদিও টি–টোয়েন্টিতে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি—স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৩—তবু ওয়ানডে এবং টেস্টে ছিলেন কার্যকর ও স্থিতিশীল।
ওয়ানডেতে ১৭ ম্যাচে ৬৬৭ রান, টেস্টে ৫ ম্যাচে ২৭৭ রান—এমন পরিসংখ্যান একজন বহুমাত্রিক ব্যাটসম্যান হিসেবে সালমানের দৃঢ়তা তুলে ধরে। শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, তাঁর নেতৃত্বাধীন দল টি–টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত—এটাই প্রমাণ করে তাঁর নেতৃত্বগুণ কিভাবে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
এ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়। সালমানের নাম এখন দাঁড়িয়ে গেছে এমন এক তালিকায়, যেখানে আগে ছিলেন বিশ্ব–মানের দুই কিংবদন্তি ধোনি ও দ্রাবিড়। আগামী দিনগুলোতে তাঁর ব্যাটিং ফর্ম যদি আরও ধারালো হয়, তবে ক্রিকেট বিশ্ব হয়তো তাঁকে শুধু রেকর্ড বুকেই নয়, ইতিহাসের পাতায়ও সযত্নে স্মরণ করবে।