বিপিএল নিলাম অনেকটা ভাগ্যের খেলা। এক মৌসুমের পারফরম্যান্স, কয়েকটি ইনিংস কিংবা একটি ঝলমলে রেকর্ড—সবকিছু মিলেই তৈরি হয় বাজারমূল্য। হাবিবুর রহমানের ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছে। নিলাম শুরুর আগেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা ছিল—তরুণ ওপেনারকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। মাত্র ১৮ লাখ ভিত্তিমূল্যে থাকা হাবিবুরকে কিনতে নোয়াখালী এক্সপ্রেস খরচ করল পুরো ৫০ লাখ।
এই নাটকীয় মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে হাবিবুরের সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি ফর্ম। রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে তাঁর ব্যাটিং ছিল চোখ ধাঁধানো। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তাঁর ৩৫ বলে সেঞ্চুরি—বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম। এ রেকর্ড এমন এক সময় আসে, যখন জাতীয় দলের ওপেনিং পজিশনে আক্রমণাত্মক ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে হাবিবুরকে ঘিরে আগ্রহ বাড়া স্বাভাবিকই ছিল।
টুর্নামেন্টে তাঁর পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর: পাঁচ ম্যাচে ২২৮ রান, গড় ৫৭, স্ট্রাইক রেট ১৮২.৪০ এবং ২১টি ছক্কা। সেমিফাইনালে ভারত ‘এ’-র বিপক্ষে তাঁর ৬৫ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ে রাখে। এ ধরনের ইনিংস শুধু রান নয়, আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে—যা নিলাম টেবিলে মূল্য বাড়াতে সাহায্য করে।
এশিয়া কাপের আগেও তিনি আলো ছড়িয়েছেন। এনসিএল টি–টোয়েন্টিতে দুই মৌসুমেই ছিলেন শীর্ষ রানসংগ্রাহকদের একজন। ২০২৪ সালে ২৫৯ রান ও ১৭ ছক্কা তাঁকে দেশীয় টি–টোয়েন্টিতে নতুন পাওয়ার–হিটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
তবে বিপিএলে তাঁর পুরোনো পরিসংখ্যান হতাশাজনক—১৪ ম্যাচে মাত্র ১২৮ রান। মূল একাদশে জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর সম্ভাবনা পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। কিন্তু এবারের পরিপ্রেক্ষিত সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর রেকর্ড সেঞ্চুরি তাঁকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে, আর ৫০ লাখ দেওয়ার মাধ্যমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে—ওরা হাবিবুরকে এই মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
এবার যদি তিনি তার বিধ্বংসী ফর্ম পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, তবে বিপিএল দেখতে পারে এক নব-তারকার উত্থান।