২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারতের ক্রিকেট মহলে যত জল্পনা-কল্পনাই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি এখনও খেলাটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। বয়সের কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল ঠিকই, কিন্তু রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পারফরম্যান্স যেন প্রত্যেক দ্বিধাকেই ধুয়ে মুছে দিয়েছে।
বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ভারতীয় ওপেনার ক্রিস শ্রীকান্ত তাই সরাসরি বলে দিলেন—“রোহিত–কোহলির মতো খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে ভারত বিশ্বকাপ জিততে পারবে—এই ভাবনাটাই ভুল।” তাঁর মতে, এই দুজনের উপস্থিতিই ভারতীয় দলের লড়াইয়ের মূল চালিকাশক্তি।
ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন রোহিত। ৫১ বলের ৫৭ রানের ইনিংসটি ছিল ধৈর্য ও আগ্রাসনের দুর্দান্ত সমন্বয়। তিনটি আকাশচুম্বী ছক্কায় রাঁচির গ্যালারি গর্জে উঠেছিল। সেই শেষ ছক্কাটি তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে। দীর্ঘদিন শহীদ আফ্রিদির দখলে থাকা রেকর্ডটি ভেঙে রোহিত নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন।
অন্যদিকে, কোহলি আবারো দেখালেন তাঁর ব্যাটিং ক্লাস ও অভিজ্ঞতার ওজন। ১২০ বলে ১৩৫ রানের সেঞ্চুরি ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, শট নির্বাচন ও দৃঢ়তা। ১১ চার ও সাত ছক্কায় তৈরি তাঁর এই ইনিংস ভারতীয় রান তোলাকে করে দিয়েছিল সহজ। দু’জনের পার্টনারশিপেই ভারত পেয়ে গিয়েছিল আত্মবিশ্বাসের ভিত।
শ্রীকান্ত ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, “দু’জন যখন ব্যাট করে, তখন ভারতের ব্যাটিং আলাদা লেভেলে চলে যায়। রোহিত ওপেনিংয়ে থাকলে শুরুটা সহজ হয়, আর কোহলি তিনে থাকলে ইনিংসের স্থিরতা আসে। তাই ২০২৭ বিশ্বকাপে এই দুজনকেই ব্যাটিং অর্ডারের এক ও তিনে প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, বয়স বাড়লেও দলে তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং অভিজ্ঞতা তাঁদেরকে আরও কার্যকর করেছে। এখন তাঁরা শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলছেন, কিন্তু তবুও ফিটনেস ধরে রাখার সংগ্রাম যে কত কঠিন—তা শ্রীকান্ত নিজেই স্বীকার করেন। “বয়স বাড়লেও ফিটনেস ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু কোহলি ও রোহিত যে মানসিক শক্তি নিয়ে কাজ করছে, সেটা অসাধারণ,”—বললেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
শ্রীকান্তের বিশ্লেষণে আরও উঠে আসে ২০২৭ বিশ্বকাপের মাঠ ও কন্ডিশনের প্রসঙ্গ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার বাউন্সি উইকেটে দ্রুতগতির বোলিং সামলাতে রোহিত–কোহলির অভিজ্ঞতা ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে। বিশেষত পাওয়ার প্লেতে রোহিত ও মাঝের ওভারে কোহলির ইনিংস গড়া—এই কৌশলই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তি।
রাঁচির ম্যাচটি ছিল তারই নির্দশন। ২১.২ ওভারে দলীয় ১৬১ রানে জুটি ভাঙার আগে প্রতিপক্ষ বোলারদের প্রায় অসহায় করে তুলেছিলেন তাঁরা। শ্রীকান্তের ভাষায়, “ওরা ২০ ওভারের মতো ব্যাট করলে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। রাঁচিতে তাই হয়েছে। সেই জুটিই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।”
অতএব, প্রশ্নটা এখন আর রোহিত–কোহলি খেলবেন কি-না—সেটি নয়। বরং কিভাবে তাঁদের ওপর ভর করেই ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারত শিরোপার লড়াই করবে—সেটিই আলোচনার মূল বিষয়।
ক্রিকেটবিশ্বের অনেকেই মনে করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের ওপর নির্ভর করেই ভারত পরবর্তী বিশ্বকাপে স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটবে। আর শ্রীকান্তের মন্তব্য সেই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করে—“রোহিত–কোহলিকে ছাড়া ভারত বিশ্বকাপ জিততে পারবে না—এটা আমি নিশ্চিত হয়ে বলছি।”