বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নতুন মৌসুমে রংপুর রাইডার্স শুরুটা করল একেবারে দাপটের সঙ্গে। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিল নুরুল হাসান সোহানের দল। ব্যাটে-বলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখে মাত্র ১৫ ওভারেই ১০৩ রানের লক্ষ্য টপকে যায় রংপুর, হাতে রেখে দেয় আরও ৫ ওভার।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও ডেভিড মালান। শুরু থেকেই চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তারা। পাওয়ার প্লে-তে ঝুঁকিহীন কিন্তু কার্যকর ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন এই দুজন। তাদের উদ্বোধনী জুটিই মূলত ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।
দলীয় ৯১ রানে লিটন দাস আউট হন। ২টি ছক্কা ও ৪টি চারে সাজানো তার ৪৭ রানের ইনিংসটি আসে ৩১ বলে। মুকিদুল ইসলামের বলে আলিস ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর তাওহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে যান—মাত্র ৩ বলে ১ রান করে একই বোলারের দ্বিতীয় শিকার হন। তবে তাতে জয়ের কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি। অপর প্রান্তে অবিচল ছিলেন ডেভিড মালান। ম্যাচ জয়ের মাত্র দুই রান আগে তিনি আউট হন ৫১ রান করে। ২টি ছক্কা ও ৫টি চারে সাজানো তার ইনিংসটি রংপুরের জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে, ৫ ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে রংপুর রাইডার্স।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথম ওভারেই নাহিদ রানার বলে আলিস ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অ্যাডাম রসিংটন। তবে এরপর পাল্টা আক্রমণে যান নাঈম শেখ। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করে রংপুরের বোলারদের চাপে ফেলেন তিনি। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে থেমে যেতে হয় নাঈমকে—২০ বলে ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।
নাঈম আউট হওয়ার পর থেকেই ধস নামে চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে। মাহমুদুল হাসান জয় ফিরে যান শূন্য রানে। মিডল ওভারে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেন ফাহিম আশরাফ। প্রথমে মাহফিজুল ইসলাম রবিনকে ফিরিয়ে শুরু, এরপর একে একে মাসুদ গুরবাজ, অধিনায়ক শেখ মেহেদী ও শরিফুল ইসলামকে আউট করে চট্টগ্রামের ইনিংস ভেঙে দেন তিনি। পরে আবু হায়দার রনিকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ফাহিম। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৭.৫ ওভারেই ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র :
| বিভাগ | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | রংপুর রাইডার্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস |
| ফলাফল | রংপুর রাইডার্স ৭ উইকেটে জয় |
| চট্টগ্রামের রান | ১০২ (১৭.৫ ওভার) |
| রংপুরের রান | ১০৩/৩ (১৫ ওভার) |
| সেরা ব্যাটার (রংপুর) | ডেভিড মালান – ৫১ |
| সেরা ব্যাটার (চট্টগ্রাম) | নাঈম শেখ – ৩৯ |
| সেরা বোলার | ফাহিম আশরাফ – ৫ উইকেট |
এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিল রংপুর রাইডার্স। ব্যাটিংয়ের গভীরতা, বোলিংয়ের বৈচিত্র্য আর মাঠের ভেতরের আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে শুরুর ম্যাচেই তারা প্রমাণ করল, এবারের বিপিএলে শিরোপার দৌড়ে তারা নিঃসন্দেহে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।