বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ পেছনে ফেলে নতুন লক্ষ্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার ঘটনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের অধিনায়ক লিটন দাস। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবেশ ও প্রস্থান—দুই সময়েই লিটনের মুখে ছিল স্বাভাবিক হাসি। বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করার প্রসঙ্গও। এ বিষয়ে লিটন বলেন, দলের খেলোয়াড়েরা সেই অধ্যায় থেকে ‘মুভ অন’ করতে পেরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে দল একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল এবং সেখানে খেলোয়াড়েরা নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করার চেষ্টা করেছে।

আসন্ন সিরিজ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, প্রতিটি খেলোয়াড়কে জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে এবং দেশের হয়ে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে। এই মানসিক প্রস্তুতিই দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশ দল আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরছে। গত দুই বছর ধরেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন লিটন দাস, এবং নতুন করে আরও দুই বছরের জন্য তিনি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা দল গঠনের ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীলতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। সেই আসরকে সামনে রেখে দল সাজিয়েছিলেন লিটন। সামনে ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এখন থেকে দল গোছানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, যেহেতু পরবর্তী বিশ্বকাপ এশিয়ার বাইরে হবে, তাই কন্ডিশন বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা সাজানো হবে। পাশাপাশি, আগের প্রস্তুতিতে দলের যে সমন্বয় ও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল, সেটিকে ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান এই সিরিজে নেই। তাদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন নতুন দুই খেলোয়াড়—আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল। অধিনায়ক জানান, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত খেলার চাপ থেকে বিরত রাখা জরুরি, যাতে তারা চোটে না পড়ে। সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট ফরম্যাটে ব্যস্ত সূচি থাকায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এই বিবেচনায় দল নির্বাচনে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নিচে এই সিরিজে দলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিভাগ অনুপস্থিত খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড় পরিবর্তনের কারণ
পেস বোলিং তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান আব্দুল গাফফার, রিপন মন্ডল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ইনজুরি ঝুঁকি কমানো

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ দল অতীতের হতাশা পেছনে রেখে ভবিষ্যতের লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন উদ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সিরিজ সেই প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন