সেপ্টেম্বর মাসে মাঠে গড়াতে পারে বহু প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ। ওই সময়ে দিল্লির মাঠে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা ছিল। তবে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বাংলাদেশ সিরিজের আলোচনা অনেকটা এগিয়ে যাওয়ায় আফগানদের বিপক্ষে ভারতের সেই সিরিজটি পিছিয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভারতের মাটিতে এটি হতে যাচ্ছে আফগানদের নিজস্ব আয়োজিত ‘হোম’ সিরিজ। তবে নতুন করে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা সামনে আসায় সেই সূচিতে বড় রদবদল ঘটতে যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত। সফরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ, যার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
সমস্যা দেখা দিয়েছে সূচির সাংঘর্ষিক তারিখ নিয়ে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ভারত টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৩ সেপ্টেম্বর। আবার কাকতালীয়ভাবে, একই দিনে দিল্লিতে শুরু হওয়ার কথা ভারত-আফগানিস্তানের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ভৌগোলিক দূরত্ব ও লজিস্টিক কারণে একই দিনে একই দলের দুটি ভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অসম্ভব। ফলে বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত হলে আফগানদের সিরিজ স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না।
নিজ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মাঠকে নিজেদের ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে এই সিরিজটির বিশেষত্ব ছিল, ভারত নিজের দেশে খেললেও তারা অফিশিয়ালি খেলত ‘অ্যাওয়ে’ দল হিসেবে। আফগানিস্তান স্বাগতিক দল হিসেবে আয়োজকের ভূমিকা পালন করত। বাংলাদেশ সিরিজের কারণে আফগানদের এই ঐতিহাসিক আয়োজন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
অবশ্য সূচির এই জটিলতা এড়াতে বিসিসিআইয়ের সামনে একটি বিকল্প পথও খোলা রয়েছে। বিসিসিআই চাইলে একটি মূল দলকে বাংলাদেশ সফরে পাঠিয়ে অন্য একটি দ্বিতীয় সারির স্কোয়াড দিয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দিল্লিতে খেলিয়ে নিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।