ডারউইনে তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, লিড ১৫০ পার করে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে অস্ট্রেলীয় পেসারদের নতুন বলের পেসে সামান্য পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নতুন গোলা হাতে পেতেই অজি পেস আক্রমণ হঠাৎই হানা দেয় সফরকারীদের মিডলঅর্ডারে। তবে শেষ সেশনের ওই সাময়িক বিপত্তি বাদ দিলে পুরো দিনের গল্পটা ছিল লাল-সবুজের ব্যাটারদের আধিপত্যের। দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে হাতে ৪ উইকেট রেখে ১৫৩ রানের শক্ত লিড গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এর আগে প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে টিকতে না পেরে অজিরা গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে। প্রথম দিনের নায়ক হাসান হলেও দ্বিতীয় দিনটি পুরোটাই নিজের নামে লিখে নেন তরুণ ড্যাশিং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাবলীল ব্যাটিং করে উপহার দেন এক দুর্দান্ত শতক। ৮টি চোখধাঁধানো চার ও ১টি বিশাল ছক্কায় ১০১ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় শাহরিয়ার নাফিসের ঐতিহাসিক শতকের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করার অবিস্মরণীয় কীর্তি এটি। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের তালুবন্দি হয়ে থামেন এই ওপেনার।

তানজিদের ব্যাটে চড়েই বড় সংগ্রহের মজবুত ভিত্তি পায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৩৬ রান যোগ করার পর দ্বিতীয় উইকেটে অভিজ্ঞ মুমিনুল হককে নিয়ে গড়ে তোলেন ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মাত্র ১ রানের জন্য অর্ধশতক বঞ্চিত হয়ে মুমিনুল ৪৯ রানে ফিরলেও তানজিদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেনি। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গী করে স্কোরবোর্ডে আরও ৯৩ রান যোগ করেন তিনি। তানজিদ বিদায় নিলে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শান্ত। দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলছিলেন সেঞ্চুরির পথেই, কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৪ রানে জশ হ্যাজলউডের ভেতরে ঢোকা বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ হয়ে তাঁকে হতাশ নিয়ে ফিরতে হয়।

শান্তর বিদায়ের পরপরই হঠাৎ করে এক মিনি ধসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা লিটন দাস আউট হন কোনো রান না করেই, আর থিতু হয়ে বসা মুশফিকুর রহিম আউট হন ৩৬ রানে। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে দ্রুত ৩টি উইকেট হারিয়ে মুহূর্তের জন্য চাপে পড়েছিল দল।

তবে শেষ বিকেলে মিরাজ-হাসানের জুটিতে ভর করে কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রান যোগ করে দিনের খেলা শেষ করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও প্রথম ইনিংসের বোলিং হিরো হাসান মাহমুদ। মিরাজ ৩২ ও হাসান ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আগের দিনের ৯৬ রানে ১ উইকেট নিয়ে খেলা শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম সেশনে ৮৫ এবং দ্বিতীয় সেশনে ১০৫ রান তুলে চালকের আসনে বসেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক যথাক্রমে ৬৮ রান খরচায় ২টি করে এবং প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন ১টি করে উইকেট পান। ১৫৩ রানের এই গুরুত্বপূর্ণ লিড ডারউইনে সফরকারীদের ঐতিহাসিক এক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

মন্তব্য করুন