এশিয়া কাপে জয়ের ধারা শুরু, ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজের শুভসূচনা

শারীরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভালো লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করে বাংলাদেশকে বেশ ভালোমতোই চাপে রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচের শুরুর দিকে রান তোলার গতি যথেষ্ট মন্থর থাকলেও, থিতু হওয়ার লড়াইয়ে সোবহানা মোস্তারির দৃঢ়তা এবং ইনিংসের শেষাংশে স্বর্ণা আক্তারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১২৯ রানের একটি সম্মানজনক সংগ্রহ গড়ে তোলে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের মঞ্চে পা রাখা ইন্দোনেশিয়ার জন্য এই টুর্নামেন্টের অভিষেক ম্যাচটি মোটেও সুখকর হলো না। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইন্দোনেশিয়ান অধিনায়ক। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে তারা দ্রুত সাফল্য লাভ করে এবং কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের ওপর। পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে ওভারপ্রতি ছয় রানও তুলতে পারেনি বাংলাদেশ দল, ফলে স্কোরবোর্ডে এক উইকেটে মাত্র ৩২ রান জমা হয়। শুরুর এই ধীরগতির পরও ব্যাটাররা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
ইনিংসে ব্যাট হাতে দিলারা আক্তার শুরু থেকেই কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন। থিতু হয়ে দলের রান বাড়ানোর আগেই তিনি ৩১ বল খেলে ২৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার চেষ্টা করলেও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যেতি ১১ বলে মাত্র ১০ রান করে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন। এই পরিস্থিতিতে উইকেটে এসে দলের ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন সোবহানা মোস্তারি। তার সাথে যোগ দিয়ে কার্যকর জুটি গড়েন তরুণ ব্যাটার স্বর্ণা আক্তার। এই দুজনের মাত্র ১৯ বল স্থায়ী জুটিতে মূল্যবান ২১ রান যোগ হয় স্কোরবোর্ডে। ইনিংসের শেষ দিকে যখন দ্রুত রান তোলার তীব্র প্রয়োজন ছিল, তখন ৪২ বল মোকাবিলা করে ৪০ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে আউট হন সোবহানা।
দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব তখন পুরোপুরি বর্তায় স্বর্ণা আক্তারের কাঁধে। সোবহানা যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন স্বর্ণার ব্যক্তিগত রান ছিল ১১ বলে ১৪। এরপর তিনি মাত্র ১৮ বলের মুখোমুখি হয়ে আরও ১৭ রান যুক্ত করেন। সব মিলিয়ে ১৮ বলের সেই মারমুখী ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে তিনি অপরাজিত ৩১ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তবে স্বর্ণার এই দুর্দান্ত গতির বিপরীত চিত্রে দেখা যায়, অন্য প্রান্তে মাত্র ৭ রান যোগ করতেই বাংলাদেশ দলের আরও চারজন ব্যাটার দ্রুত আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
বোলিং ইনিংসের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কিছুটা হতাশাজনক ছিল। ইন্দোনেশিয়ার ওপেনাররা বেশ আত্মবিশ্বাসী শুরু করে কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ২.৩ ওভারে ১৯ রান তুলে ফেলেন। তবে পাওয়ার প্লের নির্দিষ্ট ওভারগুলো শেষ হওয়ার আগেই মারুফা আক্তারের নিখুঁত ও গতিময় বোলিংয়ের সামনে হার মানেন দুই ওপেনার। এরপর মিডল ওভারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় তুলে নেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। দলের সহ-অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ স্পিনার নাহিদা আক্তার দারুণ বোলিং করে ৩টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন। এছাড়া একটি করে উইকেট লাভ করেন সানজিদা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন। ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ১৩ বল খেলে মাত্র ১২ রান করা ওপেনার মারিয়া কোরাজোনই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নাম লেখান। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এই জয়ের পর নিগার সুলতানার দল এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হয়েছে। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী দল।
ম্যাচটিতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্সের বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
খেলোয়াড়ের নাম খেলার ভূমিকা রান সংগ্রহ উইকেট লাভ বল মোকাবিলা/ওভার
সোবহানা মোস্তারি ব্যাটার ৪০ ৪২ বল
স্বর্ণা আক্তার অলরাউন্ডার ৩১ (অপরাজিত) ১৮ বল
দিলারা আক্তার উইকেটকিপার-ব্যাটার ২৭ ৩১ বল
নিগার সুলতানা ব্যাটার ও অধিনায়ক ১০ ১১ বল
নাহিদা আক্তার স্পিন বোলার ৩ উইকেট নির্ধারিত ওভার
মারুফা আক্তার পেস বোলার ২ উইকেট নির্ধারিত ওভার
সানজিদা আক্তার স্পিন বোলার ১ উইকেট নির্ধারিত ওভার
ফাহিমা খাতুন স্পিন বোলার ১ উইকেট নির্ধারিত ওভার
রিতু মনি অলরাউন্ডার ৮ বল
রাবেয়া খান স্পিনার নির্ধারিত ওভার

মন্তব্য করুন