সিপিএল অভিষেকেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাজিমাত করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের প্রথম ম্যাচেই বল হাতে জাদু দেখালেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে নেমেই নিজের অভিষেক ম্যাচটিকে দারুণভাবে রাঙিয়ে তুললেন তিনি। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৩ রান খরচ করে তুলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ব্যাট হাতে বড় রান না পেলেও বল হাতে তার এই দুর্দান্ত স্পিন নৈপুণ্য গায়ানার জয়কে সহজতর করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে সিপিএলে দল পেয়েও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি মিরাজের। এর আগেরবার ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে জায়গা মিলত না। এবার অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সে যোগ দিয়ে প্রথম সুযোগেই নিজের আসল সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই টাইগার অলরাউন্ডার। ম্যাচের শুরুতেই বোলিংয়ে এসে চমক দেখান তিনি। নিজের করা প্রথম ওভারেই সাফল্য তুলে নেন মিরাজ। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে তার অফস্পিন শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ তুলে দেন সেন্ট লুসিয়ার ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন এই স্পিনার। ওভারের পরপর দুই বলে কেমল সেভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি। পুরো কোটার চার ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করার পাশাপাশি তিনি উপহার দেন ১৩টি ডট বল, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে প্রচণ্ড চাপের মুখে দারুণ কার্যকরী এক পরিসংখ্যান।
ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি মিরাজ। দলের প্রয়োজনে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৪ বল খেলে মাত্র ১ রান সংগ্রহ করেন তিনি। স্পিনার রোস্টন চেজের বল সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে চারিথ আসালাঙ্কার হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে তার বোলিংয়ের অভাবনীয় অবদান ব্যাটিংয়ের সেই ছোট খাটো ঘাটতি সহজেই পুষিয়ে দেয়।
ম্যাচের অন্যপ্রান্তে রেকর্ড গড়েছেন গায়ানার ৪৭ বছর বয়সি লেগ স্পিনার ইমরান তাহির। মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিনি শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার এবং সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তার ষষ্ঠ ফাইফার। টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার তালিকায় বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এই তালিকায় সবার শীর্ষে থাকা ডেভিড ভিসের ফাইফার রয়েছে সাতটি। তাহিরের এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে সেন্ট লুসিয়া কিংস বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।
সেন্ট লুসিয়ার দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গায়ানার ব্যাটিংয়ের শুরুটাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। ওপেনার গ্লেন ফিলিপসের দায়িত্বশীল ৩৭ রানের সুবাদে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠে দল। তবে আসল নাটকীয়তা দেখান শেষদিকে নামা কুইন্টন স্যাম্পসন। মাত্র ১১ বলের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক ৩৭ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। স্যাম্পসনের এই ঝোড়ো ইনিংসে ১টি চারের পাশাপাশি ছক্কার মার ছিল মোট ৫টি। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গায়ানা। এই জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে ৭ম জয় তুলে নিয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে রেখেছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।
অভিষেক ম্যাচেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে গায়ানা। কাকতালীয়ভাবে এটি মিরাজের সাবেক দল, যাদের হয়ে অতীতে তিনি কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পুরনো দলের বিপক্ষে মাঠে নেমে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি এমন দাপট বজায় রাখতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন