বিশ্বকাপজয়ী হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে পড়ল পর্দা

ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে দীর্ঘ এক দশকের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন হারমানপ্রীত কৌর। সব সংস্করণে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তবে নেতৃত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন না তিনি। ভারতের জাতীয় দলের জার্সিতে একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হারমানপ্রীত।

সম্প্রতি হাংঝুতে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয়বার স্বর্ণপদক জেতার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। এরপর গুয়াহাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পরপরই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

হারমানপ্রীতের নেতৃত্বের শুরু ২০১৬ সালে। সে সময় ভারতীয় নারী টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর প্রায় এক দশক ধরে এই সংস্করণে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২২ সালে তাঁর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়, যখন তাঁকে ভারতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সাল থেকে টেস্টসহ তিন সংস্করণেই ভারতের প্রধান অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে গত বছরের নভেম্বরে। হারমানপ্রীতের অধিনায়কত্বে ভারত প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাওয়া এই সাফল্য ভারতীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে হারমানপ্রীতের অবস্থানও আরও শক্ত হয়।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে জানান হারমানপ্রীত। দীর্ঘ সময়ের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পথচলায় জমা হয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ ও ত্যাগ। সেই সময়ের কিছু মুহূর্ত জীবনের বাকি সময়ও তাঁর সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে দায়িত্ব ছাড়ার বার্তায় অবসরের কোনো ইঙ্গিত দেননি হারমানপ্রীত। বরং এখন তিনি নেতৃত্বের চাপ ছাড়াই ক্রিকেট উপভোগ করতে চান। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই আবার মুক্ত মনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একজন অধিনায়ক হিসেবে হারমানপ্রীতের ভূমিকা শুধু মাঠের কৌশল নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের একজন অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ হিসেবে সতীর্থদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুহূর্ত সামলানোর দক্ষতাও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তাঁর নেতৃত্ব ছাড়ার ফলে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন বিসিসিআইকে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে। নতুন নেতৃত্বকে এমন একটি দল সামলাতে হবে, যারা সম্প্রতি বিশ্বকাপের মতো বড় শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে।

হারমানপ্রীতের জন্য এটি অবশ্য বিদায়ের অধ্যায় নয়। বরং অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে এসে তিনি এবার নিজেকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন একজন ক্রিকেটার হিসেবে। নেতৃত্বের বাড়তি চাপ ছাড়াই ব্যাটিং, বোলিং এবং দলের জন্য প্রয়োজনীয় অবদান রাখাই হবে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।

দীর্ঘ নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে হারমানপ্রীতের উপস্থিতি থাকছে। বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে এবার তিনি শুরু করছেন ক্যারিয়ারের ভিন্ন এক পর্ব—যেখানে হাতে থাকবে না অধিনায়কের দায়িত্

মন্তব্য করুন