আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের পথ কঠিন হয়ে গেছে। তবে শিরোপার লড়াইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতির পাশাপাশি আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জয় পেলে তাদের ফাইনালে ওঠার পথ নিশ্চিত হবে। তখন আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজায় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি হয়ে উঠবে দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ওই ম্যাচে জিততে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের।
তবে জিম্বাবুয়ের পরিবর্তে আফগানিস্তান জয় পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিজেদের ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি পয়েন্ট ও নেট রান রেটের হিসাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রথম ম্যাচের হারেই পিছিয়ে বাংলাদেশ
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি দলটি। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় শান্তর দল।
এ ধরনের পরাজয়ের প্রভাব শুধু পয়েন্ট তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকে না। নেট রান রেটেও বড় ধাক্কা লাগে, যা স্বল্পসংখ্যক ম্যাচের সিরিজে ফাইনালে ওঠার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে। প্রথম ম্যাচ শেষে দলের নেট রান রেট দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১.৯৮০।
তবে একটি ম্যাচে হেরে গেলেই ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। বাকি ম্যাচগুলোর ফল এবং দলগুলোর পয়েন্টের হিসাব অনুযায়ী পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। বাংলাদেশের সামনে এখন সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ।
জিম্বাবুয়ে জিতলে খুলবে সহজ পথ
আজকের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জয় পেলে বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়ে যাবে। জিম্বাবুয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে যে দল বুধবারের ম্যাচে জিতবে, তারাই ফাইনালে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ হওয়ার সুযোগ পাবে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করা। অর্থাৎ অন্য ম্যাচের ফল অনুকূলে এলে ফাইনালে ওঠার জন্য নিজেদের পারফরম্যান্সের ওপরই মূলত নির্ভর করতে পারবে দলটি।
তবে কাজটি সহজ হবে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশকে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ব্যাটসম্যানদের ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীল থাকতে হবে। একই সঙ্গে বোলারদেরও প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
আফগানিস্তান জিতলে বাড়বে রান রেটের চাপ
সোমবারের ম্যাচে আফগানিস্তান জিতলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তখন বুধবারের ম্যাচে জয় পেলেও ফাইনালে ওঠার নিশ্চয়তা থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট তালিকা এবং নেট রান রেটের হিসাবের ওপর।
নেট রান রেট হলো একটি দল প্রতি ওভারে গড়ে কত রান করেছে এবং প্রতিপক্ষকে প্রতি ওভারে গড়ে কত রান করতে দিয়েছে, তার ব্যবধান। সাধারণত সমান পয়েন্টে থাকা দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বড় ব্যবধানে হার কিংবা জয়—দুটিই দলগুলোর হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান নেট রান রেট মাইনাস ১.৯৮০। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হলে পরের ম্যাচে শুধু জয় নয়, প্রয়োজনে বড় ব্যবধানের জয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ঠিক কত ব্যবধানে জিততে হবে, তা নির্ধারণের জন্য অন্য ম্যাচের ফল এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর রান ও ওভারের হিসাব জানা প্রয়োজন।
শান্ত, হৃদয় ও তাসকিনদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়া। ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়ে তোলা, উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা—এসব ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে নেট রান রেটের হিসাব সামনে থাকলে ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ে কৌশলী হতে হবে দলকে। ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় উইকেট হারানো এড়িয়ে চলতে হবে। বোলিংয়েও প্রতিপক্ষকে সহজে রান করার সুযোগ না দিয়ে চাপ তৈরি করতে হবে।
তবে অন্য দলের ফলাফল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। নিজেদের ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকাই হবে শান্তদের প্রধান দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা এখনো বেঁচে আছে বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ে জয় পেলে সেই পথ কিছুটা সহজ হবে। আর আফগানিস্তান জিতলে হিসাব আরও কঠিন হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ভাগ্যের সহায়তা, কার্যকর দলীয় পরিকল্পনা এবং মাঠে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স।