বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস শেষ পর্যন্ত লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। ফলে আসন্ন মৌসুমে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গল গ্যালান্টসের জার্সিতে মাঠে নামার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। জাতীয় দলের চিকিৎসক, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবারের এলপিএলের ড্রাফটের বাইরে থেকেই লিটনকে দলে ভিড়িয়েছিল গল গ্যালান্টস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা, পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য, ইনিংস গড়ে তোলার দক্ষতা এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স বিবেচনায় রেখে তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকেও তিনি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির ফাঁকে এলপিএলে খেলার পরিকল্পনাই ছিল তার।
এক পর্যায়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় ছিল। তবে সেই সিরিজে অংশ না নিয়ে এলপিএলে খেলার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন লিটন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পাওয়া চোট পুরো পরিস্থিতি বদলে দেয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়।
চোটের কারণে প্রথমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে যান। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও খেলতে পারেননি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোলেও এখনো শতভাগ ফিট না হওয়ায় ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, অসম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলে চোট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই এলপিএলে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে পূর্ণ সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লিটনের সরে দাঁড়ানো গল গ্যালান্টসের জন্যও বড় ধাক্কা। দলের পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার। ওপেনিং কিংবা টপ অর্ডারে ব্যাট করার পাশাপাশি উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারতেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্য থাকায় তাকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা করেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ আর থাকছে না।
আগামী ১৭ জুলাই শুরু হবে এবারের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ, যা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে প্রতি বছরের মতো এবারও দেশটির শীর্ষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক তারকারা অংশ নেবেন। প্রতিযোগিতাটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা।
মৌসুমের শুরুতে এলপিএলে বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু লিটনের নাম প্রত্যাহারের ফলে সেই সংখ্যা কমে চারজনে নেমে এসেছে। এখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদ। এর মধ্যে ড্রাফটের আগেই সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদকে সরাসরি দলে নিয়েছিল জাফনা কিংস। এটি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আস্থারই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
লিটনের জন্য আপাতত সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দ্রুত মাঠে ফেরা নয়, বরং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসা। বাংলাদেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় তার শতভাগ ফিটনেস নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলপিএলে খেলতে না পারায় ম্যাচ অনুশীলনের একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি তার ক্যারিয়ার এবং জাতীয় দলের স্বার্থে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলেই বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেলে জাতীয় দল ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা, ব্যাটিং দক্ষতা এবং উইকেটরক্ষক হিসেবে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাবেন এই ডানহাতি ক্রিকেটার।
![লিটনের এলপিএল মিশন থামাল চোট 1 লিটনের এলপিএল মিশন থামাল চোট Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://bn.cricket.sportsgoln.com/wp-content/uploads/2026/07/লিটনের-এলপিএল-মিশন-থামাল-চোট.jpg)