টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়েকে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে মাঠের ক্রিকেটে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নেমেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে ধুঁকছে টাইগাররা। একপর্যায়ে ভালো অবস্থানে থাকা দলটি হঠাৎ করেই মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।
রোববার সকালে ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য জিম্বাবুয়ের পক্ষে যায়। টস জিতে সফরকারী দলের অধিনায়ক বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। নতুন বলে জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই বিপাকে পড়েন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক সাজঘরে ফিরে গেলে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে ক্রিজে আসেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ। বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি দলের হাল ধরেন।
তৃতীয় উইকেটে এই দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যকার ৭৭ রানের লড়াকু পার্টনারশিপে বাংলাদেশ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। এই জুটির ওপর ভর করে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১১৩ রান সংগ্রহ করে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর শক্ত অবস্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক সৌরভ ওয়ানডে মেজাজে খেলে ১১টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারির সাহায্যে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন। তবে ব্যক্তিগত ৬০ রানে ৮১ বলে খেলে মুমিনুল আউট হলে ভেঙে যায় এই প্রতিরোধ।
১১৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মুমিনুলের বিদায়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটের ফায়দা তুলতে গিয়ে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে যান শান্ত। তবে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় বাতাসে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। অধিনায়কের বিদায়ের পর দলের বাকি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা স্রেফ আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন। মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে তারা দ্রুত আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন।
স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৭ রান যোগ করতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৩ থেকে মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৩০ রান। দলের এমন কঠিন ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে লোয়ার অর্ডারে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন দুই বোলার অমিত হাসান ও তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবুয়ের বোলারদের বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নেওয়ার আগ্রাসী বোলিংয়ের মুখে উইকেট টিকিয়ে রেখে দিন শেষ করাই এখন বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ।