অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, কেমন হতে পারে একাদশ?

আর মাত্র ১৮ ঘণ্টার অপেক্ষা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফের টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ভোরে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইতিমধ্যেই নিজেদের দল চূড়ান্ত করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো অফিসিয়ালি চূড়ান্ত একাদশ প্রকাশ করেনি। শেষ মুহূর্তের কিছু শারীরিক জটিলতা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই একাদশ গঠনের কাজ শেষ করতে চাইছে দল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার আগেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক পেসার নাহিদ রানা ছিটকে গেছেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস এবং স্পিনার তাইজুল ইসলামের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা ছিল। তবে স্বস্তির খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে তাইজুল ইসলাম সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং প্রথম টেস্টে তাঁর খেলা প্রায় নিশ্চিত। লিটন দাসের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেই সংশয় দূর করে দিয়েছেন।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাসের ফিটনেস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে টাইগার দলপতি জানান যে তিনি এখন শতভাগ ফিট রয়েছেন। লিটনের দলে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শান্ত। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ এই ব্যাটার দলে থাকায় ব্যাটিংয়ের গভীরতা যেমন বাড়বে, তেমনি মাঝের ওভারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে। প্রস্তুতি পর্ব ভালো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পুরো ব্যাটিং ইউনিট মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে। তবে চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে এখনো কিছুটা রাখঢাক রাখছেন তিনি। দলের ভেতর ছোটখাটো কিছু ইনজুরি সমস্যা থাকায় ম্যাচের দিন সকালেই চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শান্ত।
দলের বর্তমান প্রস্তুতি এবং সম্প্রতি শেষ হওয়া ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করলে সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। অজিদের পেস সহায়ক ও কঠিন কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ দল হয়তো তিনজন পেসার এবং দুজন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামার কৌশল বেছে নিতে পারে। স্পিন আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব থাকবে অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে। অন্যদিকে পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত বললেই চলে। সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে চার উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের একাদশে থাকাটাও প্রায় নিশ্চিত।
তৃতীয় পেসার হিসেবে খালেদ আহমেদের একাদশে ঢোকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি একটি উইকেট পেলেও তাঁর লাইন-লেন্থ বেশ গোছানো ছিল। অপরপক্ষে ইবাদত হোসেন প্রস্তুতি ম্যাচে উইকেট পেলেও রান খরচ করেছিলেন কিছুটা বেশি এবং সাম্প্রতিক ফর্মও খুব একটা পক্ষে কথা বলছে না। ফলে খালেদের ওপরই ভরসা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাটিং অর্ডারে ওপেনিং পজিশন নিয়ে কিছুদিন ধরে জল্পনা চললেও বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামা তানজিদ হাসান তামিম এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটার সাদমান ইসলামের ওপরই আস্থা রাখতে পারে দল।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই লড়াইয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিচার করে সাজানো এই দলটির ওপরই নির্ভর করছে ঐতিহাসিক এই সিরিজে কেমন শুরু করবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:
তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।

মন্তব্য করুন