বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের এই দুই পেসারের অগ্রগতি জাতীয় দলের বোলিং বিভাগের জন্য ইতিবাচক খবর। বিশেষ করে তাসকিনের নয় ধাপ এগিয়ে আসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে বল হাতে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে তাসকিনের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার। যদিও দলীয় পারফরম্যান্সে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ৯৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয় টাইগাররা।
দলের পরাজয়ের মধ্যেও তাসকিনের ব্যক্তিগত বোলিং পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিপক্ষের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের প্রতিফলন দেখা গেছে সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও নিজের অবস্থানের উন্নতি ঘটিয়েছেন। দুই ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে আসায় ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় বাংলাদেশের দুই পেসার এখন পাশাপাশি অবস্থান করছেন। শরিফুলের অবস্থান তাসকিনের ঠিক এক ধাপ ওপরে।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ১৭ রান খরচায় চারটি উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের পর তাঁর রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪২।
রশিদের সঙ্গে তালিকার পরবর্তী দুই বোলারের ব্যবধানও বেশ বড়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ এবং তৃতীয় অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার কেশব মহারাজ। তাঁদের তুলনায় ৮০ রেটিং পয়েন্ট এগিয়ে আছেন আফগান স্পিনার। ফলে ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন তিনি।
শুধু বোলিং নয়, ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আফগানিস্তানের তরুণ ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন। ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর ১২ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের তালিকায় ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
আতালের এই উন্নতি আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিভাগের জন্যও ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা র্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় ইনিংস কিংবা ম্যাচে প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স একজন ব্যাটারের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পর ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে পাকিস্তানের সালমান আগা ও ইংল্যান্ডের বেন ডাকেটের। সালমান উঠে এসেছেন ১২তম স্থানে। তাঁর ঠিক পরেই ১৩তম অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটার ডাকেট।
ওয়ানডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের পর ব্যাটারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ডও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। ছয় ধাপ এগিয়ে তিনি এখন ১৮তম স্থানে অবস্থান করছেন। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের প্রতিফলন।
টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় বড় উন্নতি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার গুদাকেশ মোতি। একসঙ্গে ১০ ধাপ এগিয়ে তিনি ২৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ে ক্রিকেটারদের অবস্থান নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁদের পারফরম্যান্স ও রেটিং পয়েন্টের ভিত্তিতে। ফলে প্রতিটি সিরিজের পরই ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিভিন্ন তালিকায় পরিবর্তন দেখা যায়। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স যেমন একজন ক্রিকেটারকে ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি প্রত্যাশিত নৈপুণ্য দেখাতে না পারলে অবস্থানের অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তাসকিন ও শরিফুলের উন্নতি। ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় দুজনেরই শীর্ষ ১২ জনের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া দেশের পেস বোলিং বিভাগের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে তাঁদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।