বাঁহাতি বোলারদের ইতিহাসে নতুন শিখরে মিচেল স্টার্ক

টেস্ট ক্রিকেটে ১৪৯ বছরের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসেবে এই সংস্করণে ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বলের হিসাবে দ্রুততম সময়ে ৪৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়ে পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রাকেও।

দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেখায় অনুষ্ঠিত টেস্টের তৃতীয় দিনে এই ইতিহাস গড়েন ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক। দিনের প্রথম সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার উইয়ান মুল্ডারকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫০তম উইকেটটি তুলে নেন তিনি। ওই উইকেটের মধ্য দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত একটি মাইলফলকই স্পর্শ করেননি, বাঁহাতি বোলারদের দীর্ঘদিনের রেকর্ডেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন এই অস্ট্রেলীয় পেসার।

টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। তবে ৪৫০ উইকেটের সীমা এত দিন কারও পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৪১৪ উইকেট নিয়ে। শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের ঝুলিতে রয়েছে ৪৩৩ উইকেট। তাঁদের ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন স্টার্ক।

তাঁর অর্জনের বিশেষত্ব এখানেই শেষ নয়। টেস্টে বলের হিসাবে দ্রুততম ৪৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন স্টার্কের দখলে। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁকে বল করতে হয়েছে ২০ হাজার ৫৭৭টি। অন্যদিকে, ম্যাকগ্রা ৪৫০ উইকেট নিতে করেছিলেন ২৩ হাজার ৪৭৪ বল। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই কিংবদন্তি পেসারের তুলনায় ২ হাজার ৮৯৭ বল কম করেই একই সংখ্যক উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক।

বলের হিসাবে এই পার্থক্য স্টার্কের উইকেট নেওয়ার কার্যকারিতাকে তুলে ধরে। তবে একজন বোলারের সামগ্রিক সাফল্য মূল্যায়নে শুধু উইকেটসংখ্যা বা বলের হিসাবই যথেষ্ট নয়। প্রতিপক্ষের মান, ম্যাচের পরিস্থিতি, বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং দলের জয়ে অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এত কম বলে ৪৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটেও এই মাইলফলক স্পর্শ করা বোলারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। স্টার্কের আগে দেশটির হয়ে ৪৫০ বা তার বেশি টেস্ট উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও নাথান লায়ন। তাঁদের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো স্টার্কের নাম। অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বোলার হিসেবে তিনি প্রবেশ করলেন ৪৫০ উইকেটের বিশেষ ক্লাবে।

শেন ওয়ার্নের লেগ স্পিন, ম্যাকগ্রার নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ এবং নাথান লায়নের অফ স্পিন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্টার্কের শক্তি তাঁর বাঁহাতি পেস, গতি এবং সুইং। নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখা থেকে শুরু করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া—বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর বোলিং অস্ট্রেলিয়ার জন্য কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে সফল থাকা একজন পেসারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ স্পেল, শারীরিক ধকল, ইনজুরির ঝুঁকি এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাঁদের ক্যারিয়ারকে কঠিন করে তোলে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা একজন বোলারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিচয় দেয়।

স্টার্কের ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক তাই কেবল একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের জন্যও একটি নতুন মানদণ্ড। ওয়াসিম আকরাম ও রঙ্গনা হেরাথের মতো কিংবদন্তিরা যে সীমায় পৌঁছাতে পারেননি, সেখানে পৌঁছে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ঐতিহ্যে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাঁহাতি বোলারদের জন্যও রেখে গেছেন অনুসরণ করার মতো একটি কীর্তি।

মন্তব্য করুন