টেস্টের ঐতিহ্য নষ্ট করছে পাকিস্তান, অভিযোগ নাসেরের

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ব্যস্ত থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে পাকিস্তানের টেস্ট দলে ডাকা হয়েছিল সায়েম আয়ুবকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে সুযোগ পেয়েই অবশ্য ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন এই তরুণ ব্যাটার। দুই ইনিংসেই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। সায়েমের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে পাকিস্তানের নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।

তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ ও কঠিন সংস্করণে খেলতে একজন ক্রিকেটারকে যথাযথ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আসতে হয়। অথচ সায়েম গত ১১ মাসে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেননি। এর মাত্র ১০ দিন আগেও তিনি সিপিএলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছিলেন। সেখান থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে এনে ভিন্ন কন্ডিশনে ডিউক বলের বিপক্ষে খেলানোর সিদ্ধান্তকে তাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন নাসের।

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে আরও খারাপ হচ্ছে। সায়েম আয়ুবের ঘটনাকে তিনি দীর্ঘ সময় ফিল্ডিং করার পর হঠাৎ ব্যাটিংয়ে নেমে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাসেরের ভাষায়, সায়েমকে এই ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত ছিল না। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি ছিল তার। টি-টোয়েন্টির পরিবেশ থেকে সরাসরি টেস্টে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলতে নামা একজন ব্যাটারের জন্য কঠিন—বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ডিউক বলের বিপক্ষে।

সায়েমের দুই ইনিংসের ব্যর্থতা অবশ্য পাকিস্তানের বড় সমস্যার একটি অংশ মাত্র। লর্ডস টেস্টের পর দলটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। সাত ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাঁদের জায়গায় দলে নেওয়া হয় আরও সাতজনকে, যাদের মধ্যে পাঁচজনেরই টেস্ট অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এত বড় পরিবর্তনের পরও এজবাস্টনে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ দেখা যায়নি। বরং শেষ টেস্টে তারা ইনিংস ব্যবধানে হারের আশঙ্কায় পড়ে যায়। দল নির্বাচনের পাশাপাশি মাঝ সিরিজে এত বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাসের।

তার মতে, একটি টেস্ট সিরিজ চলার সময় সাতজন ক্রিকেটারকে একসঙ্গে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া দলের ভেতরের পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থায় বড় ধাক্কা দেয়। এমনকি আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া একজন বোলারকেও পরের ম্যাচে বাদ পড়তে হয়েছে—যা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

নাসের মনে করেন, এভাবে বারবার পরিবর্তন করলে দলের মৌলিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন ক্রিকেটার যখন দেখেন তার সতীর্থ, এমনকি একই কক্ষে থাকা খেলোয়াড়ও সিরিজের মাঝপথে বাদ পড়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তখন দলের প্রতি তার আস্থা নষ্ট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে দলীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পাকিস্তানের বর্তমান দলটি তাই কাগজে-কলমে যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে হয়, মাঠে তার প্রতিফলন ঘটছে না বলেই মনে করছেন নাসের। তাঁর বক্তব্যের মূল সমালোচনা শুধু সায়েম আয়ুবকে ঘিরে নয়; বরং টেস্ট ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড় নির্বাচন, প্রস্তুতি এবং সিরিজ চলাকালে দল পরিচালনার পদ্ধতিকে ঘিরে।

বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেট থেকে সরাসরি টেস্ট দলে খেলোয়াড় আনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়নি—সায়েমের উদাহরণকে সামনে রেখে এমনটাই তুলে ধরেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা ধরে রাখতে হলে খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে পুরো দল পরিচালনায় আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন