তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে ৭০ দল, সুযোগ পাবেন ১,৪০০ ক্রিকেটার

ঢাকার ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে এবার ভিন্ন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ৭০টি দল। প্রায় ১ হাজার ৪০০ ক্রিকেটারকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেওয়া এই প্রতিযোগিতায় এবার বড় পরিবর্তন এসেছে খেলার ধরনেও। ওয়ানডের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো।

শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করা হয়। সাধারণত বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতাগুলো নিয়ে খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতা দেখা না গেলেও এবার আয়োজনটিকে কিছুটা বর্ণিল করে তুলেছে বিসিবি। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন সংস্করণে টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়টিকে সামনে রাখা হয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় লাল বলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সাদা বল। ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টিতে পরিবর্তনের ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির এই সংস্করণে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজরে আসার সম্ভাবনাও থাকছে তাদের সামনে।

বয়সের ক্ষেত্রেও এবার নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে বিসিবি। অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের বয়স ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়েই মূলত এই বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলগুলোর নির্বাচকদের মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচকদের তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের ম্যাচগুলোতে গিয়ে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের টুর্নামেন্টে ৭০টি দলকে ১৬টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে দলগুলো লিগ পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল পরের ধাপে উঠবে। ফলে গ্রুপ পর্ব শেষে মোট ৩২টি দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে।

সেরা ৩২-এর পর শুরু হবে সরাসরি বাদ পড়ার লড়াই। এই পর্বের ১৬টি ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী ধাপে যাবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইটিও নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীরা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এবং দুই সেমিফাইনালের জয়ী দল ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।

সব মিলিয়ে এবারের বাছাই টুর্নামেন্টে মোট ১৫১টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন মাঠে এসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিপুলসংখ্যক দল ও ক্রিকেটারকে প্রতিযোগিতার আওতায় আনার পাশাপাশি মাঠে নির্বাচকদের উপস্থিতি তরুণদের পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেবে।

ঢাকা ক্রিকেট কমিটি অব মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) জানিয়েছে, আগামী ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে টুর্নামেন্টটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের দলগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশে নিয়ে আসাই এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন