দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টিতে নামিবিয়ার স্মরণীয় জয়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় নামিবিয়া যে কেবল অংশ নিতে আসেনি, বরং যেকোনো পরাশক্তিকে ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে—তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। নিজেদের চেনা ডেরা উইন্ডহুকে আয়োজিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম খেলায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮ রানে হারিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। দারুণ বোলিং আর নিয়ন্ত্রিত ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করে শক্তিশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।

শুক্রবার টসে জিতে নামিবিয়াকে আগে ব্যাট করতে পাঠান প্রোটিয়া অধিনায়ক। ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিকদের দুই ওপেনার লরেন স্টেনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিঙ্ক দলকে চমৎকার ভিত গড়ে দেন। পাওয়ারপ্লের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই তারা যোগ করেন ৫৮ বলে ৮৪ রান। এর মধ্যে স্টেনক্যাম্প ২৯ বলে ৪১ রানের এক কার্যকারী ইনিংস উপহার দেন। শুরুর জুটি ভাঙার পরও ফ্রাইলিংক ও অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস রানের চাকা সচল রেখেছিলেন। দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে আরও ৩২ রান যোগ করলে ১৩.৫ ওভারে মাত্র ১ উইকেটে ১১৬ রানের মজবুত অবস্থানে পৌঁছে যায় নামিবিয়া।

উইন্ডহুকের দর্শক যখন বড় সংগ্রহের আশা করছিলেন, ঠিক তখনই নামিবিয়ার ইনিংসে নেমে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত ছন্দপতন। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের মিডল অর্ডার। মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে পাঁচ-পাঁচটি উইকেট খুইয়ে ১৩৩ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয় তারা। তবে শেষ দিকে নিচের সারির ব্যাটাররা মাথা ঠান্ডা রেখে প্রয়োজনীয় কিছু বাউন্ডারি হাঁকালে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৩ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি তৈরি হয়।

১৬৪ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে নামিবিয়ান বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতেই মাত্র ৩৪ রান তুলতেই তাদের প্রথম দুই ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। সপ্তম ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটার টনি ডি জর্জি আউট হলে আরও গভীর সংকটে পড়ে ডাচ-প্রোটিয়ারা।

এমন কোণঠাসা পরিস্থিতিতে একাই লড়াই চালিয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ অলরাউন্ডার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দলের আশা বাঁচিয়ে রেখে ৫০ বলে ৭৫ রানের তাণ্ডবী ইনিংস খেলেন তিনি। অসাধারণ এই ইনিংসে ছিল ৫টি চারের পাশাপাশি ৪টি নজরকাড়া ছক্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ব্রেভিসের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক। তিনি মাঠে থাকাকালে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ দক্ষিণ আফ্রিকার অনুকূলেই মনে হচ্ছিল।

খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৮তম ওভার। বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানার কাছে ব্রেভিস সহজ ক্যাচ তুলে দিলে ম্যাচের যাবতীয় সমীকরণ বদলে যায়। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রোটিয়াদের লাগত ৩১ রান, হাতে ছিল ৩ উইকেট। শেষ মুহূর্তের এই চরম উত্তেজনার সময় নামিবিয়ার বোলাররা ছিলেন ভীষণ সুনির্দিষ্ট। শেষ ১২ বলে তারা দেন মাত্র ১২ রান, ফলে ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ রানেই থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।

ক্রিকেট মানচিত্রে সহযোগী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম সেরা এক দলের বিপক্ষে নামিবিয়ার এই জয় কিন্তু হঠাৎ কোনো অঘটন নয়। গত ১০ মাসের মধ্যে এটি প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে নামিবিয়ার দ্বিতীয় জয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের এমন নিয়মিত পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ক্রিকেট মানচিত্রে দলটি ক্রমেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে তুলছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় আগামী রোববার একই মাঠে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মন্তব্য করুন