বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে যেকোনো দলের জন্য সবচেয়ে বড় এবং কঠিন শর্ত হলো প্রতিপক্ষের কুড়িটি উইকেট তুলে নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় বাংলাদেশ দলের বড় দুর্বলতা থাকলেও পেস বোলিং ইউনিট এখন সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে দেশে ফিরে সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনই আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে গতকাল রাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনের মাঠে দুর্দান্ত ও অসামান্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ঐতিহাসিক লিড নিয়েছিল টাইগাররা। ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের এমন অসহায় করে তোলার ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।
তবে ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং লাইনআপের চরম বিপর্যয় ঘটে। দুই ইনিংসেই দলের ব্যাটাররা একশ রানের নিচে অলআউট হয়ে যাওয়ায় ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। মাত্র দুই দিনের মাথায় ম্যাচ হেরে সিরিজ ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। তা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের এই স্বাদ দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে লেখা থাকবে।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের বলেন, বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে ফাস্ট বোলারদের দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের কোনো বিকল্প নেই। পেসাররা যখন নিজেদের সেরা ছন্দে বোলিং করেন, তখনই কেবল ভিনদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একটি টেস্ট জিততে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট শিকার করা বাধ্যতামূলক। আমাদের পেসাররা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। তারা নিজেদের এই ধারাবাহিকতা ও ফর্ম আগামী দিনেও ধরে রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিরিজের ফলাফল ১-১ থাকার পেছনে দ্বিতীয় টেস্টের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তালহা। তার মতে, ব্যাটাররা যদি সামান্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারতেন, তবে সিরিজের পুরো ট্রফিই বাংলাদেশের ঘরে উঠতে পারত। দলীয় খেলা হওয়ায় এই ব্যর্থতা নিয়ে কিছু ভাবনা থাকলেও তিনি কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন। ম্যাকাইয়ের উইকেটে টেনিস বলের মতো বাড়তি বাউন্স ছিল, যার সঙ্গে ব্যাটাররা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি। এছাড়া টসের ভাগ্যও ম্যাচটিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে টাইগারদের দাপুটে ও সাহসী পারফরম্যান্সকে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের এই সাবেক পেসার। অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেটের পরাশক্তি দলকে ডারউইনে এমন কোণঠাসা করা হয়েছিল যে, পুরো ম্যাচে তারা একটি সেশনেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য সম্পর্কে এই জয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের ঠিক আগ থেকেই দলের ভেতরে জয়ের তীব্র বিশ্বাস কাজ করছিল বলে জানান তালহা। সফরের আগে প্রস্তুতি ক্যাম্পের প্রতিটি সেশন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল এবং খেলোয়াড়েরা কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক জয় তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামীতে বিদেশের মাটিতে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে দলীয় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।