অনবদ্য অলরাউন্ড নৈপুণ্যের ধারা অব্যাহত রেখে ক্যারিয়ারে আরও একটি মাইলফলক যোগ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস। জুলাই মাসের সেরা নারী ক্রিকেটার বা ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ব্যাটে-বলে মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক আধিপত্য বজায় রেখে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির এই স্বীকৃতি পেলেন এই ক্যারিবীয় তারকা। সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট এবং শ্রীলঙ্কার হার্ষিতা সামারাবিক্রমা। তবে পরিসংখ্যান ও মাঠের সার্বিক প্রভাবে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে সেরার মুকুট ওঠে ম্যাথিউসের মাথায়।
মাসসেরার সম্মাননা পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হেইলি ম্যাথিউস জানান, এই ধারাবাহিকতা তিনি ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়েও ধরে রাখতে চান। তিনি বলেন, আইসিসির মাসসেরা পুরস্কারটি নতুন করে জিততে পেরে তিনি রোমাঞ্চিত। আগের অর্জনের মতো এই স্বীকৃতিও তার কাছে সমান গুরুত্ব বহন করে। দেশের হয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের খেলার মানকে প্রতিদিন এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পুরস্কার তাকে বাড়তি শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে।
বর্তমান সময়ে বিশ্বে নারী ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও কথা বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, নারী ক্রিকেটের পরিধি ও জনপ্রিয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি বিস্তৃত। গ্যালারিতে সমর্থকদের উন্মাদনা ও আগ্রহ গোটা খেলাটির সুন্দর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। মাঠের নৈপুণ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় শরিক হতে পেরে তিনি আনন্দিত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী ক্রিকেটকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানান এই অলরাউন্ডার।
গত জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে একাই ব্যবধান গড়ে দেন ম্যাথিউস। স্বাগতিক আইরিশদের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে একচ্ছত্র অবদান ছিল তার। প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। প্রথম ম্যাচে অফস্পিনে ৫২ রানে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতে খেলেন ১৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। পথিমধ্যে সতীর্থ রিয়ালিয়ানা গ্রিমন্ডকে সঙ্গী করে গড়েন রেকর্ড পার্টনারশিপ।
পরের ওয়ানডেতেও ব্যাটিংয়ে ১০০ রান করার সাথে সাথে বল হাতে ৩৪ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটে মাত্র ৬ রান আসলেও বল হাতে ৩৭ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। গোটা সিরিজে ১৩২.৫০ গড় ও ১১৭.২৫ স্ট্রাইক রেটে মোট ২৬৫ রান সংগ্রহের পাশাপাশি বল হাতে ১৭.৫৭ গড়ে শিকার করেন ৭টি উইকেট। এমন অতিমানবীয় নৈপুণ্যের সুবাদেই মাসসেরার ট্রফি উঠেছে তার হাতে।