মিরাজের ৯ উইকেট, তবু ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার গায়ানার

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ধাক্কা খেয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়ার্স। টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় ম্যাচে বল হাতে আবারও কার্যকর ছিলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। কিন্তু গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপের চরম ব্যর্থতায় বার্বাডোজ রয়্যালসের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে হারতে হয়েছে দলটিকে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা গায়ানার শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের তৃতীয় ওভার শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এমন পরিস্থিতিতে ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে গ্লেন ফিলিপস ও মিরাজের ওপর। দুজন মিলে ২৩ রানের একটি জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই জুটি বেশিদূর এগোয়নি।

২৪ রান করে ফিলিপস ফিরে গেলে আবারও চাপে পড়ে গায়ানা। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২৪ রানই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। দলের আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানের ঘরও পেরোতে পারেননি। দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে রান তোলার গতি যেমন থেমে যায়, তেমনি বড় জুটি গড়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।

মিরাজের কাছ থেকেও ব্যাট হাতে বড় অবদান পাওয়া যায়নি। দলের শুরুর বিপর্যয়ের পর তাঁর দায়িত্ব ছিল ইনিংসকে যতটা সম্ভব লম্বা করা। কিন্তু গায়ানার ব্যাটিং বিপর্যয় এতটাই তীব্র ছিল যে কোনো ব্যাটারই ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি।

ইনিংসের শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন রোমারিও শেফার্ড ও ইমরান তাহির। দুজন মিলে ৩১ রানের জুটি গড়েন, যা গায়ানার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। শেফার্ড ২২ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয় গায়ানা।

বার্বাডোজের বোলারদের মধ্যে এএম গজনফার ও জোহান লেইন ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই তিনটি করে উইকেট নিয়ে গায়ানার ব্যাটিং অর্ডারকে একের পর এক চাপে ফেলেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে গায়ানার ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন।

১০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বার্বাডোজের শুরুটাও অবশ্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। ৩৬ রানের মধ্যেই তারা হারায় তিন উইকেট। ফলে গায়ানার সামনে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিরাজ।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কুইন্টন ডি ককের অফস্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশের অফস্পিনার। পরে ১২তম ওভারে তাঁর দ্বিতীয় শিকার হন শ্যাডর্যাক ডেসকার্টে। ৩২ রান করে ডেসকার্টে ফেরার পরও বার্বাডোজের জয়ের পথে বড় কোনো বাধা তৈরি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে বার্বাডোজ। ব্র্যান্ডন কিং ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৪.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বার্বাডোজ রয়্যালস।

গায়ানার হয়ে হারলেও মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অবশ্য ইতিবাচক। তিন ম্যাচে তাঁর মোট উইকেট এখন ৯টি। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচেই বল হাতে দলের বোলিং আক্রমণে কার্যকর অবদান রেখেছেন তিনি। নকআউট পর্বে গায়ানার জন্য তাঁর এই ধারাবাহিকতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গায়ানার সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। ৯৯ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা দলটির ব্যাটিং দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ সারির ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর মিডল অর্ডারও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। নকআউট পর্বে এমন ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হলে শুধু বোলিং দিয়ে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাঠে নামবে গায়ানা। এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি—জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেবে। লিগ পর্বে ফ্যালকন্সের বিপক্ষেই প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছিল গায়ানা। ফলে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও থাকবে তাদের সামনে।

বার্বাডোজের বিপক্ষে পরাজয় তাই গায়ানার জন্য শুধু আরেকটি হার নয়। প্রথম কোয়ালিফায়ারের আগে এটি তাদের ব্যাটিং বিভাগকে নতুন করে ভাবার একটি বড় বার্তা। মিরাজের মতো বোলাররা নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন; এখন ফাইনালের পথ খুলতে হলে ব্যাটারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্তব্য করুন