ব্যাটে রান খরা কাটতে না পারলেও বল হাতে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ফাইনাল ম্যাচে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট শিকার করে জাফনা কিংসকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে জাফনাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে গল গ্যালান্টস।
শনিবার কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জাফনা কিংস। কিন্তু প্রতিপক্ষের নিখুঁত বোলিং আক্রমণের মুখে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে তাদের ব্যাটাররা। মাত্র ১৯ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ১২৩ রানেই গুটিয়ে যায় জাফনার পুরো ইনিংস। ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গল গ্যালান্টস কিছুটা বেগ পেলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
ছোট পুঁজি ডিফেন্ড করতে নেমে জাফনার বোলাররা দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন। ইনিংসের শুরুতেই গল মাত্র ১০ রানের মাথায় তাদের প্রথম দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল। তবে দলের বিপদ কাটিয়ে তুলতে জুনিয়র ব্যাটারদের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন থমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা। এই জুটি যখন ম্যাচের রঙ বদলে দিচ্ছিল, তখনই বল হাতে ম্যাজিক দেখান সাকিব আল হাসান। নিজের একই ওভারে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা রজার্স এবং কালুপাহানাকে সাজঘরে ফিরিয়ে জাফনাকে ম্যাচ দারুণভাবে ফিরিয়ে আনেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। রজার্স ২৭ বলে ৩৪ এবং কালুপাহানা ১৯ বলে ৩১ রান করে আউট হন।
পরবর্তীতে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে গল কিছুটা চাপে পড়লেও তাদের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে সেই চাপ কাটিয়ে ওঠেন। চামিকা করুণারত্নে ১৬ এবং সাহান আরাচ্চিগে ১৪ রান করেন। শেষের দিকে অধিনায়ক দাসুন শানাকার ঝড়ো ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ বলে অপরাজিত ২০ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস, যা গল গ্যালান্টসের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করে।
এর আগে জাফনার ব্যাটিং ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন ঘটেছিল। দলীয় ৩১ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর উইকেটে আসেন আরেক বাংলাদেশি ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু তিনি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। মাত্র ১০ বল খেলে একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০ রান করেই সাচিন্দু কলম্বাগের শিকারে পরিণত হন হৃদয়।
এরপর দলীয় ৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে জাফনা যখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তখন দলের ইনিংস মেরামতের দায়িত্বে নামেন সাকিব আল হাসান। সাত নম্বরে ক্রিজে নেমে তিনিও বড় কোনো ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ১৩ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৯ রান করে এশান মালিঙ্গার বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাকিব। জাফনার পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান আসে কামিল মিশারার ব্যাট থেকে, যিনি করেন ৪১ রান। এছাড়া ইনিংসের শেষ দিকে চামিন্দু বিক্রমাসিংহ ১৬ বলে দ্রুত ২৪ রান তুলে দলের সংগ্রহ কিছুদূর বাড়ান। গলের হয়ে বল হাতে চারিথ আসালাঙ্কা এবং এশান মালিঙ্গা প্রত্যেকেই ৩টি করে উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
ফাইনালে জাফনার হয়ে বল হাতে সাকিব আল হাসান ছিলেন দারুণ কিপ্টটে ও সফল। তিনি তার কোটার নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৫ রান খরচায় তুলে নেন মূল্যবান ২টি উইকেট। অন্যদিকে, বিজয়ী দল গল গ্যালান্টসের স্কোয়াডে বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালের একাদশে তার আর জায়গা হয়নি।
পুরো ফাইনাল ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে চমৎকার নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩ উইকেট শিকারী গল অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী ও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার সুবাদে জাফনার তরুণ ব্যাটার কামিল মিশারা টুর্নামেন্টসেরার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে নেন।