বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রীড়াবিশ্বে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই অর্থের ঝনঝনানি। বাণিজ্যিক মূল্যের দিক থেকে বিশ্বের যেকোনো ক্রীড়া লিগের মধ্যে এটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রতি বছরই এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড ভ্যালু নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে। আর্থিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে আইপিএলের সার্বিক ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে শতকরা ১১.৪ ভাগ, যা লিগটির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ।
তবে এবারের ব্র্যান্ড ভ্যালু বা বাজারমূল্যের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি)। ঐতিহ্যবাহী দুই শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) পেছনে ফেলে বাজারমূল্যের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। দীর্ঘদিন পর শিরোপার স্বাদ পাওয়াটা বিরাট কোহলিদের অর্থনৈতিক শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে আরসিবির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৯৮৪ কোটি টাকা।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে পাঁচবারের আইপিএল বিজয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। শীর্ষস্থান হাতছাড়া হলেও রোহিত শর্মা, জশপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও সূর্যকুমার যাদবের মতো ভারতীয় দলের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা থাকায় স্পন্সরদের কাছে মুম্বাইয়ের চাহিদা এখনও আগের মতোই। বর্তমানে তাদের মূল্যায়িত বাজারমূল্য ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৫২৪ কোটি টাকা। বিগত এক বছরে মুম্বাইয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে ৯.১ শতাংশ।
ব্র্যান্ড ভ্যালুর দিক থেকে তিন নম্বর অবস্থানটি ধরে রেখেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআরের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড আকর্ষণ মূলত দলের মালিক ও বলিউড মহাতারকা শাহরুখ খান। এছাড়া কলকাতার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী তাদের এই অবস্থান বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে দলে বৈশ্বিক কোনো বড় তারকার অভাব থাকায় শীর্ষে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। বর্তমানে নাইটদের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২,৩৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
একসময়ের শীর্ষ দল চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) এবার তালিকার চার নম্বরে নেমে গেছে। মহেন্দ্র সিং ধোনি ছাড়া সিএসকে দলে বড় কোনো তারকার ঘাটতি এবং নতুন মুখদের বিপণনযোগ্যতা পর্যাপ্ত না থাকায় তাদের প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর। সম্প্রতি সঞ্জু স্যামসন দলে যোগ দিলেও সিএসকের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে মাত্র ৩.৪ শতাংশ। বর্তমানে তাদের মোট বাজারমূল্য ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বা ২,৩৩৪ কোটি টাকা।
প্রথম চারটি দলের পর বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক অবস্থান কিছুটা পেছনে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১,৬০৭ কোটি টাকা বাজারমূল্য নিয়ে রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তরুণ উদীয়মান তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে দলে নেওয়া রাজস্থান রয়্যালস ১,৫৪০ কোটি টাকা নিয়ে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে। কোনো শিরোপা না জিতলেও মালকিন প্রীতি জিন্টার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ১,৫১১ কোটি টাকার ব্র্যান্ড ভ্যালুসহ সপ্তম স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব কিংস। অন্যদিকে, শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটান্স মাত্র চার মৌসুম খেলেই ১,৫০২ কোটি টাকার বাজারমূল্য তৈরি করে আট নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া কেএল রাহুলের দিল্লি ক্যাপিটালস ১,৪৯২ কোটি টাকা নিয়ে নবম এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কার লখনউ সুপার জায়ান্টস ১,১৬৭ কোটি টাকা ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তালিকার দশম স্থানে রয়েছে।
আইপিএল দলগুলোর নতুন ব্র্যান্ড ভ্যালু ও অর্জিত অবস্থান
| ক্রম | ফ্র্যাঞ্চাইজি দল | প্রধান আকর্ষণের মুখ | ব্র্যান্ড ভ্যালু (ভারতীয় টাকায়) | ব্র্যান্ড ভ্যালু (মার্কিন ডলারে) |
| ১ | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু | বিরাট কোহলি | ২,৯৮৪ কোটি টাকা | ২৬৯ মিলিয়ন ডলার |
| ২ | মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | রোহিত শর্মা / হার্দিক পাণ্ডিয়া | ২,৫২৪ কোটি টাকা | ২৬৪ মিলিয়ন ডলার |
| ৩ | কলকাতা নাইট রাইডার্স | শাহরুখ খান (মালিক) | ২,৩৪৩ কোটি টাকা | – |
| ৪ | চেন্নাই সুপার কিংস | মহেন্দ্র সিং ধোনি | ২,৩৩৪ কোটি টাকা | ২৪৪ মিলিয়ন ডলার |
| ৫ | সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | কাব্য মারান (মালিক) | ১,৬০৭ কোটি টাকা | – |
| ৬ | রাজস্থান রয়্যালস | বৈভব সূর্যবংশী | ১,৫৪০ কোটি টাকা | – |
| ৭ | পাঞ্জাব কিংস | প্রীতি জিন্টা (মালিক) | ১,৫১১ কোটি টাকা | – |
| ৮ | গুজরাট টাইটান্স | শুভমান গিল | ১,৫০২ কোটি টাকা | – |
| ৯ | দিল্লি ক্যাপিটালস | কেএল রাহুল / অক্ষর প্যাটেল | ১,৪৯২ কোটি টাকা | – |
| ১০ | লখনউ সুপার জায়ান্টস | সঞ্জীব গোয়েঙ্কা (মালিক) | ১,১৬৭ কোটি টাকা | – |