কোহলির সঙ্গে সেই সংঘাত এখন কনস্টাসের কাছে শুধুই স্মৃতি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ম্যাচই যে এতটা ঘটনাবহুল হয়ে উঠবে, তা হয়তো স্যাম কনস্টাস নিজেও ভাবেননি। মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের তারকা বিরাট কোহলির সঙ্গে মাঠে উত্তপ্ত মুহূর্ত, পরে জসপ্রীত বুমরাহর বিপক্ষে দুঃসাহসী ব্যাটিং—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ এই ব্যাটারের অভিষেক ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল ক্রিকেটবিশ্বের আলোচনার অন্যতম বিষয়।

দেড় বছর আগের সেই ঘটনার রেশ অবশ্য এখন আর নেই। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে থাকা কনস্টাস পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মাঠের সেই উত্তেজনাকে তিনি এখন আর বিরোধ হিসেবে দেখছেন না। বরং ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কনস্টাসের। প্রথম টেস্টেই তিনি ব্যাট হাতে সাহসী ক্রিকেট খেলেন। তবে তাঁর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় আসে কোহলির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা।

ম্যাচের একপর্যায়ে কনস্টাস ও কোহলির মধ্যে শারীরিক ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে মাঠের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি দ্রুতই ক্রিকেটবিশ্বের নজরে আসে। ওই ঘটনার পর কনস্টাসকে তাঁর ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই দিনের কথা স্মরণ করেন কনস্টাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোহলি তাঁকে কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখন তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই।

কনস্টাস বলেন, ঘটনার পর দুজনই বিষয়টি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছেন। ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যাচ শেষে কোহলি তাঁর সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলেন।

কনস্টাসের সেই অভিষেক টেস্টে আরেকটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ভারতের পেসার জসপ্রীত বুমরাহর বিপক্ষে তিনি এমন একটি রিভার্স সুইপ খেলেছিলেন, যা সরাসরি সীমানার বাইরে গিয়ে ছক্কা হয়। টেস্ট ক্রিকেটে সেটিই ছিল বুমরাহর বলে প্রথম ছক্কা হজমের ঘটনা।

বিশ্বমানের পেসারের বিপক্ষে এমন আক্রমণাত্মক শট খেলার পর কনস্টাসের উদযাপনও কম আলোচিত হয়নি। বুমরাহকে কিছুটা উত্যক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ম্যাচের উত্তেজনা তখন আরও বেড়ে যায়। বুমরাহর সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটির ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।

তবে সময়ের ব্যবধানে কনস্টাস সেই মুহূর্তকেও বেশ হালকাভাবেই দেখছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সব খুঁটিনাটি এখন আর খুব একটা মনে নেই। কিন্তু নিজের প্রথম টেস্টেই এত কিছু ঘটে যাওয়াকে তিনি মজার স্মৃতি হিসেবেই দেখেন।

বুমরাহর মতো বিশ্বমানের বোলারের বিপক্ষে রান করার বিষয়টিও কনস্টাস আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সেরা বোলারদের একজনের বিপক্ষে একজন তরুণ ব্যাটার সফল হলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। আর নিজের অভিষেক ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটায় অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

মেলবোর্নের সেই টেস্টে কনস্টাসের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি করেছিল। একই ম্যাচে কোহলি ও বুমরাহর মতো ভারতের দুই বড় তারকার সঙ্গে তাঁর মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।

তবে কনস্টাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার বিষয়টিই বেশি স্পষ্ট। মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই যতটা তীব্র হতে পারে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেটিকে ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত করার প্রয়োজন নেই—কোহলির শুভকামনার প্রসঙ্গ টেনে যেন সেই কথাই তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ এই ক্রিকেটার।

দেড় বছর পর ফিরে তাকিয়ে তাই মেলবোর্নের সেই দিনটি কনস্টাসের কাছে কোনো তিক্ত অধ্যায় নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রথম পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ব্যতিক্রমী স্মৃতি।

মন্তব্য করুন